Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খেলোয়াড়দের চোট ও ক্লান্তি কমাতে বড় পদক্ষেপ: নতুন এফটিপি রোডম্যাপে পর্যাপ্ত বিশ্রামে জোর দিচ্ছে বিসিসিআই

 ‌

Player-injuries

সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতে জনপ্রিয়তার দিক থেকে ক্রিকেটের স্থান শীর্ষে। প্রতি বছরই ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড তাদের বিস্তৃত ক্রিকেট ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে থাকে। তবে তিন ফর্ম্যাটের ব্যস্ত সূচির কারণে ইদানীংকালে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। লাগাতার এই ম্যাচ খেলার ফলে ক্রিকেটারদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বাড়ার পাশাপাশি চোট-আঘাতের প্রবণতাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। 

এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে এবং কাজের চাপ কমাতে অবশেষে এক ঐতিহাসিক ও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত হতে চলা পরবর্তী 'ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম'-এ ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুনির্দিষ্ট সুযোগ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বোর্ড কর্তারা। 

এই নতুন দূরদর্শী পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দান করতে আগামী ২২ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে আয়োজিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বিশেষ এফটিপি ওয়ার্কশপ। আইসিসির বিশ্বব্যাপী সমস্ত পূর্ণ সদস্য দেশের বোর্ড প্রতিনিধি ও অপারেশন্স এক্সিকিউটিভদের উপস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে আগামী চার বছরের বৈশ্বিক ক্রিকেটের সূচি এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের চরম শারীরিক ক্লান্তি বা ‘বার্নআউট’ এড়ানো সম্ভব হয়।

সম্প্রতি ভারতীয় দল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভার পর বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া বোর্ডের এই নতুন ও ইতিবাচক কৌশলের কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, আন্তর্জাতিক স্তরে প্লেয়ারদের চোটমুক্ত রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করাই বর্তমানে বোর্ডের প্রথম অগ্রাধিকার। বিশেষত দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন পরিবেশ ও কন্ডিশনে সফর করার আগে ভারতীয় দলের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ এবং সেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অতিরিক্ত সময় রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

বোর্ডের এই নীতিগত পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। অতীতে ব্রিটেনের মাটিতে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে যথাযথ প্রস্তুতি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট দল নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে পারফর্ম করতে ব্যর্থ হয়েছিল। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই সইকিয়া স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতে সেনা দেশগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ শুরুর আগে আবশ্যিকভাবে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের বন্দোবস্ত থাকবে, যাতে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগেই ক্রিকেটাররা পরিবেশের সঙ্গে পূর্ণ মানিয়ে নিতে পারেন।

তবে ২০২৭–৩১ মেয়াদের এই বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট সূচি তৈরি করা আয়োজকদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। কারণ, এই চার বছরে ভারতকে একাধিক বড় আইসিসি ট্রফিতে অংশ নিতে হবে, যার মধ্যে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড), ঘরের মাঠে ২০২৯ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০৩০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (ইংল্যান্ড) এবং ২০৩১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে আয়োজিত ওডিআই বিশ্বকাপ অন্যতম। এই মেগা টুর্নামেন্টগুলি ও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জটিল সময়সূচি সামলে আপাতত আফগানিস্তান সিরিজ ও সেপ্টেম্বরের শেষে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে লড়াই দিয়ে নিজেদের এই নতুন কৌশলের সফর শুরু করছে ভারত।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন