সমকালীন প্রতিবেদন : সামাজিক মাধ্যমে লোন পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ। সেই প্রতারণার সূত্র ধরেই বনগাঁ আদালতে এসে তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেললেন আদালতের আইনজীবীরা। অভিযোগ, নিজেদের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষকে লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত ওই তিনজন। পরে কমিশনের নামে ধাপে ধাপে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত।
জানা গেছে, বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে লোন পাইয়ে দেওয়ার বিজ্ঞাপন বা প্রচার চালিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করত অভিযুক্তরা। পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পাইয়ে দেওয়া হবে বলে তাঁদের প্রলোভন দেখানো হত। তবে লোনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আগে এক লক্ষ টাকা কমিশন দিতে হবে বলে জানানো হত। এরপর একবারে পুরো টাকা না নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কখনও ২০ হাজার টাকা, কখনও ২২ হাজার টাকা, আবার কখনও ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এভাবে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের পরও প্রতিশ্রুতি মতো লোন দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর এদিন বনগাঁ আদালতে ওই তিনজনকে নিয়ে আসা হয়।
আদালত চত্বরে তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। একপর্যায়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে বনগাঁ আদালতের আইনজীবীরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর তাঁরা তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। নিজেদের আইনজীবী পরিচয় নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়েই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় বলে জানা গিয়েছে।
পরে বনগাঁ আদালতের আইনজীবীরা ওই তিনজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কীভাবে তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করত, কতজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রতারিত দুই যুবকের অভিযোগ, লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের বনগাঁ আদালত চত্বরে ডেকে আনা হয়। সেখানে প্রসেসিং ফি বাবদ তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরবর্তীতে তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপরই তাঁরা বুঝতে পারেন, লোন দেওয়ার নামে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, তাদের কাজ দেওয়ার কথা বলে আইনজীবীর পোশাক পরে আদালতে আসতে বলা হয়েছিল। সেইমতো আদালতে এসে তারাও উল্টে প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে দাবি করে তারা। অর্থাৎ, নিজেদেরও এই ঘটনার প্রতারিত বলে দাবি করেছে অভিযুক্তরা।
লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে সামাজিক মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। এই ঘটনায় আদালত চত্বরেই তিন সন্দেহভাজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, অভিযুক্তরা সত্যিই ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করছিলেন কি না এবং তাদের প্রতারণার জাল কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন