Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

বনগাঁয় জনরোষের মুখে তৃণমূল নেতার বেআইনি ফেন্সিং, সরকার বদলাতেই গুঁড়িয়ে দিল উত্তেজিত জনতা

 

Illegal-fencing

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এবার বনগাঁয় প্রকাশ্যে এল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনরোষ। বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতার দেওয়া একটি বেআইনি ফেন্সিং ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল উত্তেজিত জনতা। বনগাঁ পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মতিগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব মাঠ সংলগ্ন এলাকায় আজ এই ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভয় দেখিয়ে জোর করে এই ফেন্সিং দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, শঙ্কর আঢ্যর কথামতো না চলায় মাঠের পাশ থেকে জোর করে এই ফেন্সিং তুলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘ দিন ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। ফেন্সিং দেওয়ার ফলে এলাকায় কোনো জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা বড় গাড়ি ঢোকার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন স্থানীয় মৃৎশিল্পী সিন্টু ভট্টাচার্য। তাঁর প্রতিমা তৈরির কারখানায় যাতায়াত বন্ধ হওয়ায় ব্যবসা প্রায় বন্ধের মুখে চলে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই অবিচারের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। কিন্তু ওই তৃণমূল নেতার ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। রাজ্যে সরকার বদল হতেই আজ পুঞ্জীভূত সেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জোটবদ্ধ হয়ে ওই বেআইনি ফেন্সিং ভেঙে দেন।

আবেগঘন কণ্ঠে স্থানীয় মৃৎশিল্পী সিন্টু ভট্টাচার্য তাঁর ওপর হওয়া অত্যাচারের বিবরণ দিয়ে বলেন, "শঙ্কর আঢ্য নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে এই বেআইনি ফেন্সিং দিয়েছিলেন। আমি যখন এর প্রতিবাদ করি, তখন ক্ষমতার দম্ভে আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমায় চূড়ান্ত হয়রানি করা হয়। এমনকি তাঁর ভয়ে প্রায় দেড় মাস আমাকে ঘরছাড়া হয়ে থাকতে হয়েছিল। এলাকার মানুষও আতঙ্কে মুখ খুলতে পারতেন না। আজ সরকার পরিবর্তন হতেই আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছি এবং সবাই মিলে এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে ফেন্সিংটি ভেঙে ফেলেছি।"





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন