Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড: পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা নন্দদুলালের, খতিয়ে দেখা হচ্ছে নতুন অভিযোগ

 

Barun-Biswas-Murder-Case

সমকালীন প্রতিবেদন : সমাজকর্মী বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় এক দশক পর ফের নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপারের কাছে বরুণ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ নন্দদুলাল দাস একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই তদন্তপ্রক্রিয়া নতুন মোড় নিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুক্রবার অভিযোগকারী নন্দদুলালবাবুকে নিজের দপ্তরে ডেকে পাঠান পুলিশ সুপার এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গাইঘাটা থানা এলাকার চাঁদপাড়া সোনাটিকারীর বাসিন্দা তথা স্কুল পরিদর্শক অফিসের কর্মী নন্দদুলাল দাস জানান, “দায়ের করা অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং তদন্ত সম্পর্কিত কিছু জরুরি তথ্য সংগ্রহ করতেই এসপি ম্যাডাম আমাকে ডেকেছিলেন। আমি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হস্তান্তর করেছি। তদন্তের স্বার্থে আরও কিছু নথিপত্র চাওয়া হয়েছে, যা আমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে আমি সুবিচারের আশা দেখছি।” 

তবে এই নতুন পদক্ষেপের পর নিজের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করে নন্দদুলালবাবু পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, নন্দদুলাল দাসের দায়ের করা নতুন এই অভিযোগে রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। অভিযোগে তিনি প্রাক্তন খাদ্য ও বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মোট আটজনের নাম উল্লেখ করেছেন। 

নন্দদুলাল দাসের দাবি, বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত ছিল এবং তাঁর মাথার ওপর তৎকালীন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন ছিল। বরুণ বিশ্বাসের সঙ্গে নদী সংস্কার সহ একাধিক জনকল্যাণমূলক আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধেও পরবর্তীতে নানা আইনি জটিলতা তৈরি করা হয়েছিল বলে নন্দদুলালবাবু অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগের এই সুর ধ্বনিত হয়েছে বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের গলাতেও। নিহতের দিদি প্রমিলা রায় বিশ্বাস প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জানান, “নন্দদুলালবাবু তাঁর নিজস্ব জায়গা থেকে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকেও আমরা বহুবার বলেছি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাত রয়েছে। নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত হলে সত্য সামনে আসবেই।”

নন্দদুলাল দাসের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই জেলা পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দিন পর পুলিশের এই প্রত্যক্ষ সক্রিয়তা এবং অভিযোগকারীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠককে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন দেখার, তদন্তের এই নতুন মোড় বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের অপ্রকাশিত সত্য সামনে আনতে কতটা সাহায্য করে এবং অভিযোগকারীর নিরাপত্তার আবেদনে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন