Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মহাযুদ্ধ যৌথভাবে আয়োজিত হবে আফ্রিকা মহাদেশের তিন দেশে

 

2027-ODI-World-Cup

সমকালীন প্রতিবেদন : বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি-র মেগা ইভেন্ট ওয়ানডে বিশ্বকাপকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের উন্মাদনা বরাবরই তুঙ্গে থাকে। ২০২৭ সালের আইসিসি পুরুষ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট মহলে ইতিমধ্যেই খসড়া সূচি ও রূপরেখা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টের সূত্র ধরে জানা গেছে, আগামী ২০২৭ সালের ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে ক্রিকেটের এই মহাসংগ্রাম, যার জমকালো সমাপ্তি ঘটবে ওই বছরেরই ২১ নভেম্বর। 

প্রায় দেড় মাস ধরে চলতে থাকা এই মেগা টুর্নামেন্টে সর্বমোট ৫৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ট্রফির লড়াইয়ে বিশ্বমঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি হবে ক্রিকেটের সেরা ১৪টি দেশ। এবারের বিশ্বকাপটি গত ২০২৩ সালের আসরের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের হতে চলেছে। ক্রিকেট ভক্তদের নস্টালজিয়াকে উস্কে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আবার ২০০৩ সালের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী ফরম্যাট ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

নতুন এই নিয়মে অংশগ্রহণকারী ১৪টি দলকে দুটি পৃথক গ্রুপে ভাগ করা হবে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ৭টি করে দল। গ্রুপ পর্বের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে প্রতি গ্রুপ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ তিনটি দল জায়গা করে নেবে পরবর্তী ‘সুপার সিক্স’ পর্বে। এরপর সুপার সিক্সের সেরা চারটি দল খেলবে সেমিফাইনাল। সেখান থেকে বিজয়ী দুই পরাশক্তি ২১ নভেম্বর ফাইনালের মহারণে শিরোপার জন্য মুখোমুখি হবে।

২০২৭ সালের এই মেগা টুর্নামেন্টটি যৌথভাবে আয়োজন করতে চলেছে আফ্রিকা মহাদেশের তিন রাষ্ট্র– দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া। এর মধ্যে মূল আয়োজকের প্রধান ভূমিকায় থাকছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রোটিয়াদের মোট ৮টি বিশ্বমানের স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের সিংহভাগ ম্যাচ এবং হাই-ভোল্টেজ নকআউট ম্যাচগুলি আয়োজিত হবে। ম্যাচ আয়োজনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে জোহানেসবার্গের ঐতিহ্যবাহী ওয়ান্ডারার্স, কেপটাউনের চোখজুড়ানো নিউল্যান্ডস এবং ডারবানের কিংসমিড স্টেডিয়াম।

দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটপ্রেমীদের বুকেও কাঁপন ধরাতে তৈরি হচ্ছে হারারে এবং বুলাওয়ে শহরের স্টেডিয়ামগুলি। অন্যদিকে, ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথমবার নামিবিয়া কোনো বড় মাপের আইসিসি ইভেন্ট একক বা যৌথভাবে আয়োজন করার ঐতিহাসিক সুযোগ পাচ্ছে। নামিবিয়ার দুটি নির্দিষ্ট ভেন্যুতে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের নিয়মেও রয়েছে বেশ কিছু চমক। আয়োজক দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে কোনো রকম ঝক্কি ছাড়াই সরাসরি মূল পর্বে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে যাবে। এর পাশাপাশি আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি এই টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। 

তবে নামিবিয়া সহ-আয়োজক দেশ হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য কোনো সরাসরি টিকিটের ব্যবস্থা থাকছে না। মূল পর্বে পৌঁছাতে গেলে তাদের কোয়ালিফয়ার বা বাছাইপর্বের কঠিন বৈতরণী পার করতে হবে। আর বাকি থাকা কয়েকটি শূন্যস্থানের জন্য বিশ্বের অন্যান্য সহযোগী দেশগুলির মধ্যে বাছাইপর্বে তীব্র লড়াই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটবিশ্ব। 

এদিকে, বিগত ২০২৩ সালের ঘরের মাঠের ফাইনালে হারের হতাশা ও কান্না ভুলে, সম্পূর্ণ নতুন এই ফরম্যাটে নিজেদের মেলে ধরে ফের একবার বিশ্বজয়ের ইতিহাস গড়তে এখন থেকেই ছক কষতে শুরু করেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন