Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

পুজোর আগেই রাজ্য পুলিশে ১১ হাজারের বেশি নিয়োগ, ষষ্ঠীর আগে ২০ শতাংশ অগ্রিম বেতন

 

Recrutment-in-State-Police

সমকালীন প্রতিবেদন : পুজোর আগে রাজ্য পুলিশে ১১ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল নিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী‌কাল নিজের হাতে নবনিযুক্তদের নিয়োগপত্র তুলে দেবেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, ষষ্ঠীর আগেই পুলিশকর্মীরা ২০ শতাংশ বর্ধিত বেতন-সহ অগ্রিম বেতন পাবেন বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, থানার পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের উপরেও জোর দেন তিনি।

তর্পণ উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের ঘাটে নিরাপত্তা ও পরিষেবা দেওয়ার জন্য পুলিশকর্মীদের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বহু পুলিশকর্মী রাতভর জেগে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পৌঁছে দিতে ১১২ নম্বর পরিষেবা চালুর উদ্যোগের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ১০০ ডায়াল পরিষেবাকে আরও কার্যকর করার উপরেও জোর দেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগলেও কলকাতা পুলিশের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১৫ মিনিট। এই ব্যবধান কমিয়ে দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

থানাগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রতিটি থানায় চারটি করে গাড়ি ও চারটি করে মোটরবাইক দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ১৫০০ চালক নিয়োগের প্রস্তাবেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওয়াটগঞ্জ থানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে থানার বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

নিয়োগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত পাঁচ মাস ধরে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। ওবিসি সংক্রান্ত আইনি সংশোধনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাজ্য পুলিশে ১১ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল নিয়োগের কথা জানান। আগামীকাল নিয়োগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশকর্মীদের রেশন ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। ভবিষ্যতে এই ভাতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও রাজনৈতিক দলের পরিচয় না দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার নির্দেশও দেন।

রাজ্য পুলিশের দক্ষতার উপর আস্থা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ আধিকারিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। বীরভূমের পুলিশ সুপারকে এক পাথর মাফিয়ার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধারের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে, সীমান্ত নিরাপত্তায় বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং এনআইএর ধাঁচে রাজ্যে পৃথক তদন্তকারী সংস্থা গড়ার উদ্যোগের কথাও জানান।

আরজি কর, কসবা ল কলেজ ও বারুইপুরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়েদের বিয়ে আটকানোর বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। দুর্নীতি দমন শাখা বা এসিবির নতুন অফিস আগামী নভেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে ২০ জন পুলিশকর্মীকে নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ওই দলে ১৫ জন পুরুষ ও পাঁচ জন মহিলা পুলিশকর্মী থাকবেন।














‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন