Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি, গেট বন্ধ বনগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে আচমকা ক্লাস বাতিলের সিদ্ধান্ত

 ‌

Class cancelled

সমকালীন প্রতিবেদন : বকেয়া পারিশ্রমিকের দাবিতে অস্থায়ী কর্মীদের কর্মবিরতি এবং তার জেরে বিদ্যালয়ের গেট বন্ধ থাকাকে কেন্দ্র করে বুধবার চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হল বনগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে। নির্ধারিত সময়ে স্কুলে পৌঁছেও গেটের তালা বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারেননি শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত বুধবারের পঠনপাঠন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন প্রধান শিক্ষক কুনাল দে। আচমকা স্কুল বন্ধের একক সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকদের একাংশ। একইসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সহ-শিক্ষকদের একাংশ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার আগেই নির্ধারিত সময়ে পড়ুয়ারা স্কুলে চলে আসে। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও বিদ্যালয়ে পৌঁছান। কিন্তু বিদ্যালয় চত্ত্বরে প্রবেশ করতে পারলেও অফিসের মূল প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলতে থাকায় কোনও শিক্ষকই ভিতরে ঢুকতে পারেননি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গেট না খোলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক মাইকে ঘোষণা করেন যে, এই দিনের মতো ক্লাস বন্ধ রাখা হচ্ছে।

আগাম কোনও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই আচমকা পঠনপাঠন বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়ে ছাত্র এবং অভিভাবকেরা। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে একাদশ শ্রেণির নির্ধারিত পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকায় তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান বেশ কয়েকজন অভিভাবক। কেন আগে থেকে কিছু না জানিয়ে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হল, তা নিয়ে তাঁরা প্রধান শিক্ষকের কাছে জবাব চান এবং বিক্ষোভ দেখান।

অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, অন্যান্য বিদ্যালয়ের তুলনায় বনগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিচালন ব্যবস্থাতেও নিয়মানুবর্তিতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে তাঁদের দাবি। স্কুলের লাগাতার অনিয়মের কারণে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে খামতি রয়ে যাচ্ছে বলেও অভিভাবকদের অভিযোগ। আর এই পরিস্থিতির জন্য তাঁরা সরাসরি স্কুলের প্রধান শিক্ষককেই দায়ী করেছেন।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন সহ-শিক্ষকদের একাংশও। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন না। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি বিদ্যালয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হলেও প্রধান শিক্ষক সহ-শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই নিজের মতো করে রেজুলেশন জমা দিয়েছিলেন। সেই রেজুলেশনে অনিয়ম থাকায় প্রশাসক তা অনুমোদন করেননি। এর ফলেই অস্থায়ী কর্মীদের পারিশ্রমিক আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ অধিকাংশ  শিক্ষকের।

শিক্ষকদের ওই অংশের আরও দাবি, প্রশাসনিক স্তরে তৈরি হওয়া সমস্যার দায় এড়াতেই প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অজুহাত দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রভাব কোনওভাবেই পড়ুয়াদের পড়াশোনার উপর পড়া উচিত নয়। অথচ বুধবারের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদেরই তার মাশুল দিতে হল। তবে এদিন একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অনেক চেষ্টার পর গেটের চাবি জোগাড় করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেন স্কুলের শিক্ষকেরা। 

যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছেন বনগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক কুনাল দে। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যালয়ের গেটের চাবি অস্থায়ী কর্মীদের কাছেই থাকে। বুধবার তাঁরা চাবি নিয়ে না আসায় গেট খোলা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে পঠনপাঠন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। অস্থায়ী কর্মীদের বকেয়া পারিশ্রমিকের বিষয়েও নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন প্রধান শিক্ষক। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক কিছু জটিলতার কারণে গত দু’মাস ধরে ওই কর্মীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

অস্থায়ী কর্মীদের বকেয়া পারিশ্রমিক, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী-প্রধান শিক্ষকের মতবিরোধ এবং তার জেরে গেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বুধবার কার্যত অচল হয়ে পড়ে বনগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠন। একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রভাব সরাসরি পড়ুয়াদের উপর পড়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে অভিভাবক মহলেও। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন