Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

স্টল তৈরি ঘিরে বনগাঁয় উত্তেজনা, মুখোমুখি সিপিআইএম ও হিন্দু সংগঠন

 

Temporary-stall

সমকালীন প্রতিবেদন : শারদ উৎসব উপলক্ষ্যে বনগাঁয় অস্থায়ী স্টল তৈরি করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াল। মঙ্গলবার সকালে বনগাঁ সিপিআইএম কার্যালয়ের সামনে পুজো উপলক্ষে ঐতিহ্য মেনে বই ও সামাজিক প্রচারের জন্য অস্থায়ী স্টল তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, সেই কাজেই বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সিপিআইএম নেতৃত্বের অভিযোগ, স্টল তৈরির কাজ চলাকালীন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চের স্থানীয় কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সেখানে এসে কাজে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বাম নেতৃত্বের দাবি, এরপর আচমকাই তাঁদের দলের কয়েকজন কর্মীর ওপর চড়াও হন হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও ভিএইচপির কর্মীরা। তাঁদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ সিপিআইএমের।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। অভিযোগের প্রতিবাদে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পুলিশের দ্বারস্থ হন সিপিআইএম নেতৃত্ব। পাশাপাশি দলের কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন সিপিআইএম নেতা সুমিত কর। 

সুমিত করের দাবি, প্রতি বছরই দুর্গাপুজোর সময় দলের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় বই ও সামাজিক প্রচারের স্টল তৈরি করা হয়। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই স্টল তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেখানে অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং দলের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরো অভিযোগ, 'আমাদের নির্দিষ্ট জায়গাতেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমর্থকেরা জোর করে তাদের স্টল তৈরি করার চেষ্টা করছে।'‌

সুমিত করের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলির নিজেদের কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে দলের কর্মীদের হেনস্থা ও শারীরিকভাবে আক্রমণের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে সিপিআইএমের আনা মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। সংগঠনের বনগাঁ শাখার প্রতিনিধি কিংকর সাহার দাবি, ঘটনাকে ঘিরে দু’পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কোনও পক্ষের কর্মীকে মারধর করা হয়নি। তাঁর কথায়, বিষয়টি নিয়ে অযথা উত্তেজনা ছড়ানোর কোনও কারণ নেই।

কিংকর সাহা আরও জানান, ঘটনাটি নিয়ে তাঁরাও পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। এলাকায় যাতে কোনওভাবেই সামাজিক বা রাজনৈতিক অশান্তি তৈরি না হয়, সেই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোনও ধরনের অশান্তিতে না জড়ানোর জন্য তাঁদের পরামর্শ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্টতই তৈরি হয়েছে মতবিরোধ। একদিকে সিপিআইএমের দাবি, তাদের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে এবং পুজোর স্টল তৈরির কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে শুধুমাত্র সাময়িক বাকবিতণ্ডার কথা জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বনগাঁ থানার পুলিশ সক্রিয় হয়েছে। এলাকায় যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখছে পুলিশ প্রশাসন। 



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন