Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

‌নিহত শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড: তদন্তে নতুন গতি, আইনজীবী বদল ও মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

Barun-Biswas-murder-case

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর অবশেষে দীর্ঘদিনের চাপা পড়া বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড মামলায় বড়সড় মোড় এল। মামলার আইনি লড়াইয়ে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে সরকারি আইনজীবী (পিপি) পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সাথে, পরিবারের দীর্ঘদিনের লড়াইকে মান্যতা দিয়ে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করার জোরালো ইঙ্গিত মিলছে।

সূত্রের খবর, চলতি মাসের ৪ তারিখে বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমিলা দেবী রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে ‘জনতার দরবারে’ দেখা করেন। ভাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুবিচারের দাবিতে তাঁদের সেই সাক্ষাতের দিনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, বরুণ বিশ্বাস হত্যার ধুলোবালি জমা ফাইলটি প্রশাসন পুনরায় খতিয়ে দেখতে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সেই বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই তৎপরতা শুরু করে রাজ্য পুলিশ। গত ৯ই জুলাই সিআইডির একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল সরাসরি গাইঘাটায় বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছায়। সিআইডি আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন নিহত লড়াকু শিক্ষকের প্রবীণ বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে। তাঁদের কাছ থেকে নতুন করে ঘটনার নানা দিক এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা।

অন্যদিকে, এই মামলার আইনি লড়াইয়ের শুরু থেকেই বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ছায়ার মতো লড়াই করে চলেছেন আইনজীবী দীপাঞ্জয় দত্ত। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনজীবী দীপাঞ্জন দত্ত এবং মনোজ সাহাকে প্রথম থেকেই এই মামলাটি বিশেষভাবে পরিচালনার জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল। এবার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বদল এবং সিআইডির এই আকস্মিক সক্রিয়তায় দীর্ঘ বছর পর বরুণ বিশ্বাসের পরিবার ও সুবিচারের আশায় থাকা সাধারণ মানুষ নতুন করে আশার আলো দেখছেন।‌

আইনজীবী দীপাঞ্জন দত্ত এব্যাপারে এদিন জানান, সিআইডি ইতিমধ্যেই ৭৬ জন সাক্ষীর কথা চার্জশিটে উল্লেখ করেছে। তারমধ্যে ৩৬ জনের সাক্ষী হয়ে গেছে। আজ ৩৭তম সাক্ষী আদালতে হাজির ছিলেন। মোট ৮ জন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছিল। তারমধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত সুশান্ত চৌধুরী মারা গেছে। আর একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে জুভেনাইল আদালত।

এই মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নতুন করে নিযুক্ত দেবরঞ্জন ব্যানার্জী বলেন, আজ ৩৭তম সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির ছিলেন সেইসময় দমদম সেন্ট্রাল জেলের সুপার। আগামী ৩১ আগস্ট বরুন বিশ্বাসের বাবা জগদীশ বিশ্বাস আদালতে সাক্ষী দেবেন। নানা কারণে এই মামলা বহু বছর ধরে চলছে। বরুনের পরিবার সহ আমরাও চাই, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হোক।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন