Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

একুশে জুলাইয়ের আগে ঋতব্রত শিবিরে বিশ্বজিৎ দাস ও তাপস চট্টোপাধ্যায়

 

Biswajit-in-Ritabrata-camp

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন যেন এক চিরস্থায়ী রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক হেভিওয়েট নেতা, প্রাক্তন বিধায়ক এবং সাংগঠনিক স্তরের প্রথম সারির মুখেরা কালীঘাট শিবির ত্যাগ করছেন। শুক্রবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দুই অত্যন্ত পরিচিত নাম– বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস এবং রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। আসন্ন ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির ঠিক মুখে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূলে এই দুই নেতার অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে একটি দীর্ঘ বৈঠকের পর স্পষ্ট হয়ে যায় বাংলার রাজনীতির নতুন সমীকরণ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান আনসারিও। দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর কালীঘাট শিবিরের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক চুকিয়ে বিশ্বজিৎ দাস এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাপস চট্টোপাধ্যায় ‘আসল’ তৃণমূলে যোগ দেন। এই যোগদানের ফলে উত্তর ২৪ পরগনার মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পেল। যোগদান প্রসঙ্গে সরাসরি মুখ না খুললেও বিশ্বজিৎবাবু ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানান, "উনি (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়) সুবক্তা। আমি ওঁর কথাবার্তা শুনি, ভালো লাগে। আজ এসে দেখা করলাম।”

বঙ্গ রাজনীতিতে ‘দলবদলু’ হিসেবে বিশ্বজিৎ দাসের পরিচিতি নতুন নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার শিবির বদল করেছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে পরপর দু'বার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব সামলান। তিনি মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দল বদলে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন এবং বিজেপির টিকিটে বাগদা আসন থেকে জয়ী হন। তবে বেশিদিন তাঁর মন টেকেনি পদ্মশিবিরে। ওই বছরই বিধানসভায় এসে পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে ফেরেন এবং বাগদার বিধায়ক পদ ত্যাগ করেন। নেত্রী তাঁকে পুনরায় বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করেন।

২০২৪ সালের লোকসভায় তৃণমূলের টিকিটে লড়লেও তিনি পরাজিত হন। এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে পুনরায় বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু বিজেপির অশোক কীর্তনিয়ার কাছে পরাজিত হন, যিনি বর্তমানে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী। নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে কার্যত কোণঠাসা ও আড়ালে চলে গিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। শুক্রবার বিধানসভায় এসে তাঁর এই আকস্মিক দলবদল সেই আড়াল ভেঙে তাঁকে আবারও রাজনীতির লাইমলাইটে নিয়ে এলো।

একই দিনে ‘আসল’ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বারাসত সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায়ও। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজনীতির আঙিনায় তিনিও একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। একযোগে জেলার দুই অভিজ্ঞ ও শীর্ষ স্তরের নেতার দলত্যাগকে কালীঘাট শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। একুশে জুলাইয়ের মেগা ইভেন্টের আগে এই ধারাবাহিক ভাঙন এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে একের পর এক প্রথম সারির নেতার আগমন আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন