Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

বনগাঁর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিম্নমানের খাবার ও পঠনপাঠন বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগে সরব অভিভাবকরা

 

ICDS-centre

সমকালীন প্রতিবেদন : শিশুদের পুষ্টি ও বুনিয়াদি শিক্ষার অন্যতম স্তম্ভ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কিন্তু বনগাঁ ব্লকের একটি আইসিডিএস কেন্দ্রের ছবিটা ঠিক উল্টো। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে বাচ্চাদের অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়া সহ পঠনপাঠনের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার গুরুতর অভিযোগ তুললেন অভিভাবকেরা। পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে সরাসরি বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন অভিভাবকেরা।

বনগাঁ ব্লকের গঙ্গানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাঁচপোতা গ্রামের এই ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের ১২৮ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রটিকে ঘিরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। অভিভাবকদের মূল অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে শিশুদের যে পুষ্টিকর আহার দেওয়ার কথা, তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং নামমাত্র। এছাড়া। সরকারি নিয়ম না মেনেই চলছে এই কেন্দ্রটি।

অভিভাবকদের দাবি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে বাচ্চাদের মেনু অনুযায়ী সঠিক খাবার দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র খিচুড়ি আর ডিম দেওয়া হলেও, তা দেওয়া হয় অত্যন্ত অনিয়মিতভাবে। এমনকি প্রায়শই আধসেদ্ধ ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। খাবারের পাশাপাশি কেন্দ্রের পড়াশোনার পরিবেশ নিয়েও ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা। প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের যেভাবে খেলার ছলে শিক্ষাদানের কথা, তার ন্যূনতম পরিকাঠামো বা পরিবেশ এখানে নেই বলে দাবি তাঁদের।

এই ঘটনার তদন্তে ও গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ, উক্ত কেন্দ্রের শিক্ষিকা কানন বালার কাছে স্কুলের বাচ্চাদের পুষ্টির হিসাব রাখা বা পড়ুয়াদের উপস্থিতির কোনো নির্দিষ্ট রেজিস্টার বা খতিয়ান খাতা নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক হলেও, এই কেন্দ্রে তা করা হয় না। প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, পরবর্তীতে গ্রামবাসীদের ও অভিভাবকদের প্রবল চাপের মুখে পড়ে নিজের এই গাফিলতির কথা স্বীকার করে নেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা কানন বালা।

তিনি বলেন, সরকার ডিমের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করে, তাতে হয় না। কারণ বাজারে ডিমের দাম সরকারি বরাদ্দের থেকে বেশি। আর কেন্দ্রে রেজিস্টারের বদলে মোবাইলে সব লিখে রাখা হয়। অন্যদিকে, সহকারী রাঁধুনীর বক্তব্য, গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় একদিন কম সেদ্ধ হওয়া খাবার অভিভাবকেরা নিজেরাই নিয়ে যান। তারা বাড়িতে গিয়ে ফুঁটিয়ে নেবেন বলায় সেই খাবার দেওয়া হয়।

এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকার দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং চরম অব্যবস্থার প্রতিকার চেয়ে পাঁচপোতা গ্রামের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে বিডিও-র দ্বারস্থ হয়েছেন। শিক্ষিকা কানন বালার বিরুদ্ধে মূলত পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে শিশুরা সঠিকভাবে পায় এবং কেন্দ্রের পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেই দাবিতেই প্রশাসনের কড়া হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। 




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন