সমকালীন প্রতিবেদন : প্রখর রোদ আর বাতাসে অত্যধিক জলীয় বাষ্পের জোড়া আক্রমণে প্রাণান্তকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। সকাল হতেই চড়া রোদ আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গলদঘর্ম অবস্থা– এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে হাঁসফাঁস করছেন বাংলার মানুষ। তবে এই চরম অস্বস্তির মাঝেই খানিকটা স্বস্তির খবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার থেকে ফের রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে বৃষ্টির নতুন স্পেল, যা সপ্তাহান্তে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে কালবৈশাখীর রূপ নিতে পারে।
গত সপ্তাহে কালবৈশাখীর সৌজন্যে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, দিন দুয়েকের মধ্যেই ফের চেনা ছন্দে ফিরেছে গরম। আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৩ ডিগ্রি বেশি) এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৪ ডিগ্রি বেশি)।
বুধবার মহানগরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩৬ ডিগ্রি এবং ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৫৭ থেকে ৯১ শতাংশের মধ্যে থাকায় 'ফিল লাইক টেম্পারেচার' বা অনুভূত তাপমাত্রা অনেকটাই বেশি হবে।
আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে চড়া রোদের পাশাপাশি আর্দ্রতাজনিত চরম অস্বস্তি বজায় থাকবে। কলকাতার আকাশ মূলত পরিষ্কার বা আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে পারদ ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ছুঁতে পারে।
আবহবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমানে আবহাওয়ার দুটি বড় বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাকিস্তান থেকে শুরু করে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূল পর্যন্ত একটি সুদীর্ঘ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এই দুইয়ের জোড়া প্রভাবেই মূলত সাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বঙ্গে প্রবেশ করছে, যা বৃষ্টিপাতের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
আজ বুধবার বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকলেও, বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মেঘ জমতে শুরু করবে। শুক্রবার ও শনিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি ঝড়বৃষ্টির দাপট বাড়বে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম এবং নদিয়া জেলায় বৃষ্টির তীব্রতা বেশি হতে পারে। ঝড়বৃষ্টির জেরে সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই বৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলিতেও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে রবিবার পর্যন্ত।
এদিকে, কেরালা উপকূলে পশ্চিমা বায়ু পর্যাপ্ত পরিমাণে শক্তিশালী না হওয়ায় দেশে এখনও বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটেনি। তবে আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেরল, লাক্ষাদ্বীপ এবং তামিলনাড়ুর বিস্তীর্ণ অংশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। চলতি সপ্তাহে বায়ুপ্রবাহের গতি বাড়লে দেশজুড়ে বর্ষার অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছেন আবহবিদরা।

.jpeg)







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন