সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁ থানার কমলাপুর এলাকার একটি খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানায় আকস্মিক অভিযান চালাল রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। মঙ্গলবার জেলা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরের উপস্থিতিতে ‘পুষ্পা ফুড প্রোডাক্টস’ নামের ওই কারখানায় এই বিশেষ পরিদর্শনের কাজ চালানো হয়। দপ্তর সূত্রে খবর, কারখানায় উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা যাচাই করতে বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা শীঘ্রই অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কারখানায় মূলত সস, ভিনিগার, চাউমিন ও কাসুন্দির মতো একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তৈরি হয়। বাজারে সরবরাহ করা এই সমস্ত পণ্য নির্দিষ্ট সরকারি খাদ্যবিধি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে প্রস্তুত করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এটি তাঁদের একটি রুটিন বা নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ। সাধারণ ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাবার পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতেই সময়ে সময়ে এই ধরনের অভিযান চালানো হয়ে থাকে।
সংগৃহীত নমুনার ল্যাব রিপোর্ট হাতে আসার পরেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দপ্তরের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে। এদিকে, এই প্রশাসনিক অভিযানকে কেন্দ্র করে বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। কারখানাটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আসরে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, এই কারখানায় অত্যন্ত নিম্নমানের কাঁচামাল এবং অস্বাস্থ্যকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে পচা কুমড়ো ও আলু দিয়ে সস ও অন্যান্য খাবার তৈরি করা হচ্ছিল।
বিজেপির দাবি, অতীতেও একাধিকবার কারখানায় প্রশাসনিক তল্লাশি চালিয়ে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের আরও অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মদতে ও মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে কারখানাটি পুনরায় চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই কারণেই খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এই আকস্মিক অভিযান নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়।
বিজেপির তোলা এই সমস্ত গুরুতর আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে আবারও সাফ জানিয়েছেন, এই অভিযানের পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই, এটি সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক বিষয়। ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানসম্মত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই কারখানাটির ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারিত হবে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন