সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘ ১২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটছে ক্রিকেটের। পুরুষ ও মহিলা— উভয় বিভাগেই যে ২০ ওভারের ফর্ম্যাটে (টি-টোয়েন্টি) মোট ৬টি করে দল অংশ নেবে, তা আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। তবে এই সীমিত সংখ্যক আসনে কোন কোন দেশ জায়গা পাবে, তা নিয়ে ক্রীড়ামহলে জল্পনার অন্ত ছিল না।
অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) যৌথ সন্মতিতে অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জনের সেই জটিল সমীকরণ ও নিয়মাবলী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই নিয়ম বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, অলিম্পিক্সের মূল মঞ্চে ভারতের সরাসরি খেলার রাস্তা অনেকটাই মসৃণ, অন্যদিকে বড়সড় বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের মতো হেভিওয়েট দলগুলি।
আইওসি-র প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, পুরুষদের ক্ষেত্রে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে বিশ্বের চারটি প্রধান মহাদেশ (এশিয়া, ইউরোপ, ওশিয়ানিয়া ও আফ্রিকা) থেকে শীর্ষস্থানে থাকা ৪টি দেশকে সরাসরি অলিম্পিক্সের টিকিট দেওয়া হবে। প্রতিটি মহাদেশ থেকে কেবল একটি করে দল এই কোটা নিশ্চিত করতে পারবে। পঞ্চম স্থানটি সংরক্ষিত থাকছে আয়োজক দেশ আমেরিকার জন্য, তবে শর্ত হলো ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫-এর মধ্যে থাকতে হবে।
আর ষষ্ঠ বা শেষ দলটিকে বেছে নেওয়া হবে ২০২৭ সালে আয়োজিত একটি বিশেষ ‘গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার’ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। বর্তমানে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের যে অবস্থান, তাতে চার মহাদেশের শীর্ষ চার দল হিসেবে সরাসরি অলিম্পিক্সে খেলার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারত (এশিয়া), ইংল্যান্ড (ইউরোপ), অস্ট্রেলিয়া (ওশিয়ানিয়া) এবং দক্ষিণ আফ্রিকা (আফ্রিকা)।
মহাদেশীয় কোটার এই কড়া নিয়মের কারণেই মূলত কপাল পুড়তে চলেছে একাধিক ক্রিকেটীয় পরাশক্তির। এশিয়া মহাদেশ থেকে ভারত র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলি সরাসরি অলিম্পিক্সে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। একইভাবে ওশিয়ানিয়া মহাদেশে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে থাকায় র্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বরে থাকা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের সরাসরি অলিম্পিক্সের দরজা বন্ধ।
২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের চূড়ান্ত সময়সীমা পর্যন্ত যারা এই মহাদেশীয় লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকবে, সেই পরবর্তী আটটি সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দেশকে নিয়ে খেলা হবে আইসিসি অলিম্পিক্স কোয়ালিফায়ার। সেই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে তবেই মিলবে অলিম্পিক্সের শেষ কোটা। অর্থাৎ পাকিস্তান বা নিউজিল্যান্ডকে লস অ্যাঞ্জেলেসের টিকিট পেতে হলে কোয়ালিফায়ারের অগ্নিপরীক্ষায় পাস করতে হবে।
পুরুষদের মতো র্যাঙ্কিংয়ের দীর্ঘ অপেক্ষা নয়, মহিলাদের ক্ষেত্রে অলিম্পিক্সের টিকিট নির্ধারণের সমীকরণটি করা হয়েছে চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে। এই টুর্নামেন্টে চার আলাদা মহাদেশ থেকে যারা সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেছে, তারা সরাসরি অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই মহাদেশীয় নিয়মে ইতিমধ্যেই মহিলাদের ইভেন্টে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও গ্রেট ব্রিটেন (ইংল্যান্ড)-এর জায়গা পাকা হয়ে গেছে। বাকি দুটি আসনের মধ্যে আয়োজক হিসেবে আমেরিকা (র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ১৫-র মধ্যে থাকলে) সরাসরি খেলবে এবং শেষ দল হিসেবে জায়গা করে নেবে কোয়ালিফিকেশন টুর্নামেন্টের জয়ী দেশ।
লস অ্যাঞ্জেলেসের পমোনা স্টেডিয়ামে আয়োজিত হতে চলা এই মেগা টুর্নামেন্টে দুই বিভাগ মিলিয়ে মোট ৯০ জন করে অ্যাথলিট অংশ নেবেন এবং ২৮টি ম্যাচ খেলা হবে। মহাদেশীয় প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখার আইওসি-র এই অনমনীয় নিয়মে অলিম্পিক্সের মঞ্চে ভারত বনাম পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী দ্বৈরথ শুরুতেই দেখার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য কিছুটা আক্ষেপের হলেও ভারতের সরাসরি অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দেশের ক্রীড়ামহলে বিপুল আনন্দের হাওয়া বয়ে এনেছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন