সমকালীন প্রতিবেদন : সরকারি নির্দেশিকার বাইরে ছাত্রদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। সোমবার বনগাঁ হাইস্কুলের অভিভাবক এবং ছাত্রদের যৌথ প্রতিবাদের সামনে শেষপর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বনগাঁর ঐতিহ্যবাহী স্কুল বনগাঁ হাইস্কুল। স্বাভাবিকভাবেই এই স্কুলের ছাত্র সংখ্যা শহরের অন্যান্য স্কুলের থেকে অনেকটাই বেশি। অধিকাংশ অভিভাবকই চান, তার ছেলেকে বনগাঁ হাইস্কুলে ভর্তি করতে। স্কুলের এক শ্রেণীর অভিভাবকদের অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ছাত্র এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নানা অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, পঞ্চম শ্রেণীর পাশাপাশি একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান, কলা এবং বানিজ্য বিভাগে ভর্তির জন্য সরকার নির্ধারিত ফিজ এর জায়গায় বিভিন্ন রকমের বিলে নানা খাতে মোটা টাকা ছাত্রদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। গত বেশ কয়েক বছর ধরে এই কাজ হয়ে আসছে। এব্যাপারে আপত্তি থাকলেও নিজেদের বাড়ির ছেলেদের ক্ষতি হতে পারে, এই আশঙ্কায় এতোদিন কোনও অভিভাবকই সরাসরি প্রতিবাদ করতে সাহস দেখাতেন না।
রাজ্যে পালাবদলের পরই নতুন সরকার 'জিরো টলারেন্স'– এর কথা বার বার বলায় এবার সাহস পাচ্ছেন অভিভাবকেরা। সম্ভবত তারই ফলস্বরূপ আজ স্কুল খোলার পরই একদল অভিভাবক এবং ছাত্র সরাসরি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘরে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। তাদের প্রশ্ন, সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কেন প্রতিটি ছাত্রের কাছ থেকে দ্বিগুন টাকা নেওয়া হবে?
আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের ঘরে তর্কবিতর্ক চলতে থাকে। ততক্ষণে গোটা ঘটনা একাধিক সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। অভিভাবকেরা দাবি করেন, ছাত্রদের কাছ থেকে যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে, সেইসব টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে স্কুলকে। অবশেষে চাপের মুখে অভিভাবকদের দাবি মেনে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন প্রধান শিক্ষক কুনাল দে।
ঠিক হয়, একাদশ শ্রেণীর কলা ও বানিজ্য বিভাগের ক্ষেত্রে ছাত্রপ্রতি ৯০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা নেওয়া হবে। আর দ্বাদশ শ্রেণীর ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমান যথাক্রমে ১০০০ এবং ১৩০০ টাকা। এই পরিমানের বাইরে যে অতিরিক্ত টাকা ছাত্রদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, সেই টাকা আগামী ৭ দিনের মধ্যে স্কুলের পক্ষ থেকে ছাত্রদেরকে ফেরত দেওয়া হবে বলে লিখিত প্রতিশ্রতি দেন প্রধান শিক্ষক।
এব্যাপারে বনগাঁ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কুনাল দে বলেন, 'সরকার যে অর্থ ছাত্রদের কাছ থেকে নেওয়ার কথা বলেছে, সেই পরিমান টাকায় স্কুলের অন্যান্য খরচ সামলানো সম্ভব নয়। তাছাড়া, স্কুলের কয়েকজন অস্থায়ী কর্মীদের বেতন স্কুল তহবিল থেকে দিতে হয়। সেই খরচ সামলানোর জন্য অতিরিক্ত টাকা নিতে আমরা বাধ্য হই। তবে অভিভাবকেরা না চাইলে এখন থেকে আর অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হবে না।'
উল্লেখ্য, শুধু বনগাঁ হাইস্কুলই নয়, বনগাঁর বেশ কিছু নামী স্কুলও একইভাবে সরকারি নির্দেশের বাইরে গিয়ে মোটা অঙ্কের অতিরিক্ত টাকা পড়ুয়াদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছে। এই টাকা অনেক অভিভাবকের পক্ষেই দেওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। কিছু ক্ষেত্রে ছাড় মিললেও সব অভিভাবক সেই স্তরে বলার সুযোগ পান না। বনগাঁ হাইস্কুলে আজ যে প্রতিবাদ অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দেখা গেল, আগামীদিনে সেই ঢেউ অন্যান্য স্কুলেও আছড়ে পড়বে কি না, এখন সেটাই দেখার।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন