সমকালীন প্রতিবেদন : ২২ গজে তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে একের পর এক বিশ্বরেকর্ড। বিহারের সমস্তিপুরের এই তরুণ তুর্কি, বৈভব সূর্যবংশী, এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখের মণি। প্রথমবার আইপিএল প্লেঅফে খেলতে নেমেই সে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কিংবদন্তি ক্রিস গেইলের রেকর্ড। ব্যাট হাতে যেমন রানের পাহাড় গড়ছে বৈভব, ঠিক তেমনই পাল্লা দিয়ে আকাশছোঁয়া হচ্ছে তার সম্পত্তির পরিমাণও। তার এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, এবার হয়তো তাকে ভারতের মূল জাতীয় দলে ডেকে নেওয়ার সময় চলে এসেছে।
ইতিমধ্যেই ভারত ‘এ’ দল এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে বৈভব। ভারতের জার্সি গায়ে সবচেয়ে কম বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের নজির রয়েছে ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ শচীন তেণ্ডুলকরের (১৬ বছর ২০৫ দিন)। চলতি বছর বৈভবের সামনে সুযোগ রয়েছে ক্রিকেটের ঈশ্বরের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার।
চলতি আইপিএল মরশুমে রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছে বৈভব। ১৫টি ইনিংসে ৪৫.৩৩ গড় এবং ২৪২.৮৫-এর অবিশ্বাস্য স্ট্রাইক রেটে সে সংগ্রহ করেছে ৬৮০ রান। যার মধ্যে রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও চারটি হাফসেঞ্চুরি। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, তার মোট রানের ৮৮.৯ শতাংশই এসেছে চার ও ছক্কা থেকে, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। এই মুহূর্তে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার দৌড়েও সবার আগে রয়েছে সে।
মাঠের এই সাফল্য বৈভবের আর্থিক গ্রাফকেও রকেটের গতিতে বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজস্থান রয়্যালস থেকে বার্ষিক ১.১০ কোটি টাকা বেতনের পাশাপাশি প্রতি ম্যাচে ৭.৫ লক্ষ টাকা করে ম্যাচ ফি পায় সে। গত দুই মরশুমে ২২টি ম্যাচ খেলে কেবল ম্যাচ ফি বাবদই তার আয় হয়েছে প্রায় ১.৬৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর এককালীন ৪০ লক্ষ টাকা পুরস্কার পেয়েছে সে। অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ পিছু ২০ হাজার টাকা এবং বিহারের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দিন প্রতি ৪০ হাজার টাকা উপার্জন করে এই কিশোর।
বিজ্ঞাপন জগতেও এখন হট কেক বৈভব। একটি বিখ্যাত হেলথ ড্রিঙ্কের বিজ্ঞাপনী চুক্তি থেকে সে পেয়েছে ৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি, বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড এমআরএফ (MRF) তাকে ব্যাটের স্পনসরশিপ বাবদ দিয়েছে আরও ৫ কোটি টাকা। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিটি পোস্টের জন্য সে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নেয় বলে সূত্রের খবর। বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও তাকে দুই দফায় ৬০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারে ভূষিত করেছেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভবের গ্যারেজে শোভা পাচ্ছে উপহার হিসেবে পাওয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ এবং নিজস্ব উপার্জনে কেনা ১৭ লক্ষ টাকার টাটা কার্ভ গাড়ি। এ ছাড়াও, মুম্বইয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছে সে। সমস্তিপুরে তার পৈতৃক বাড়িটির বাজারমূল্যও প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা।
নানা সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে বৈভবের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৭ থেকে ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার সমস্ত আর্থিক চুক্তি ও আইনি প্রক্রিয়া আপাতত তার অভিভাবকেরাই দেখাশোনা করেন। তবে আইপিএল শেষ হলে বৈভবের ব্র্যান্ড ভ্যালু যে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আগামী দিনে প্রতিটি বিজ্ঞাপনের জন্য ৭৫ লক্ষ থেকে ১.২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত দর হাঁকতে পারে ভারতের ক্রিকেটের এই নতুন ‘ওয়ান্ডার বয়’।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন