Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

বিজয় মিছিলে স্লোগান দেওয়ার ‘শাস্তি’! বাগদায় বিজেপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ, গ্রেফতার তৃণমূল কর্মী

 

Slogans-in-Victory-Procession

সমকালীন প্রতিবেদন : বাগদা বিধানসভার বাজিতপুর এলাকায় এক বিজেপি সমর্থক যুবকের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। আক্রান্ত যুবকের নাম ভূপেন হালদার। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী কৌশিক মোদককে গ্রেফতার করেছে বাগদা থানার পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বাগদা এলাকায় বিজেপির একটি বিজয় মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন স্থানীয় যুবক ভূপেন হালদার। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন মাইকে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করেই শাসকদলের স্থানীয় কিছু কর্মীর সাথে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। গেরুয়া শিবিরের দাবি, সেই স্লোগান দেওয়ার ‘অপরাধেই’ ভূপেনকে টার্গেট করা হয়েছিল এবং মনে ক্ষোভ জমিয়ে রাখা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন ভূপেন। পরিবারের দাবি, রাত বাড়তেই বাজিতপুর বাজার এলাকায় রাস্তাঘাট যখন ফাঁকা হয়ে আসে, তখন ভূপেনকে একা পেয়ে পথ আটকায় অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী কৌশিক মোদক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে ভূপেনকে তাড়া করে সে।

প্রাণভয়ে ওই যুবক দৌড়তে শুরু করলে তাকে ধরে ফেলে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় বলে অভিযোগ। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ভূপেনের মাথা ও ঘাড়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় কোনওরকমে হামলাকারীর হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে চিৎকার করতে করতে বাড়ির দিকে ছোটেন তিনি।

ভূপেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির দোরগোড়ায় লুটিয়ে পড়তে দেখে চিৎকার জুড়ে দেন পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ভর্তি করা হয়। 

হাসপাতাল সূত্রে খবর, যুবকের মাথা ও ঘাড়ে একাধিক সেলাই পড়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হলেও বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আপাতত তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

আক্রান্তের পরিবারের বক্তব্য, "ভূপেন বিজেপি করে এবং বিজয় মিছিলে স্লোগান দিয়েছিল, শুধু এই কারণেই ওকে খুনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

ঘটনার পর রাতেই বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আক্রান্তের পরিবার। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তৎপরতা দেখায় পুলিশ প্রশাসন। রাতেই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী কৌশিক মোদককে গ্রেফতার করা হয়।

যদিও এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত বিবাদের তত্ত্ব খাড়া করা হয়েছে, তবে বিজেপির দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হিংসা। ঘটনার পিছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন