সমকালীন প্রতিবেদন : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের ফাটল এবার প্রকাশ্যে চলে এল। দলের ভেতরের একাংশের বিরুদ্ধে একাধিক নেতার ক্ষোভ প্রকাশের মাঝেই এবার বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রবিবার মধ্যমগ্রামে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি পাঠিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন বারাসতের এই সাংসদ।
নির্বাচনে পরাজয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করার পাশাপাশি, দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর খবরদারির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাকলি দেবী। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভোটকুশলী সংস্থাটি তাঁকে সরাসরি হুমকি দিয়েছিল। ক্ষুব্ধ সাংসদের দাবি, “এই সংস্থাটি দল পরিচালনায় সম্পূর্ণ সর্বনাশ করে দিয়ে গেছে।” কোনও ‘ভুঁইফোঁড় সংস্থার’ ওপর ভরসা না করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁর অনুরোধ, আগামী দিনে যেন দলের পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চলা হয়।
উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের একদা শক্ত গড় হিসেবে পরিচিত উত্তর ২৪ পরগনায় ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার ৩৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ৯টি আসন পেয়েছে তৃণমূল। বারাসত, বারাকপুরসহ সিংহভাগ আসনেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। এই বিপর্যয়ের পরই তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড়সড় রদবদল করা হয়। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দিয়ে পুনরায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্বে ফিরিয়ে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৫ সালে সংসদীয় দলের যে পরিবর্তনের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার দলনেতা এবং কাকলি দেবী মুখ্য সচেতক হয়েছিলেন, এক বছরের মাথায় সেই সমীকরণ বদলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সাংসদ। পদ খোয়ানোর পর সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’
এই টানাপোড়েনের মাঝেই এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সামনে এসেছে। যেখানে এক দিকে রাজ্যের বেশিরভাগ তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা হ্রাস করা হয়েছে, সেখানে উল্টো পথে হেঁটে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই দৃশ্যত ছন্নছাড়া অবস্থা তৃণমূলের। হারের কারণ পর্যালোচনায় দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে বহু সাংসদ, বিধায়ক ও কাউন্সিলর অনুপস্থিত থাকছেন। আইপ্যাকের রণকৌশল নিয়ে দলের অন্দরে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই পদত্যাগ ও বিস্ফোরক মন্তব্য তাতে ঘৃতাহুতি দিল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন