Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

ফলতায় তাসের ঘরের মতো ভাঙল তৃণমূলের দুর্গ, লক্ষাধিক ভোটে জয়ী বিজেপি প্রার্থী

 

Falta-election-result

সমকালীন প্রতিবেদন : সকালের ট্রেন্ডই বজায় থাকল দিনের শেষে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে ‘ছাব্বিশের’ নির্বাচনে নজির গড়লেন তিনি। এই জয়ের ফলে ফলতায় বিজেপির রাজনৈতিক আধিপত্য আরও মজবুত হলো। 

অন্য দিকে, দীর্ঘদিনের দলীয় দুর্গ কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ায় বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’ মাত্র ৭,৭৮৩টি ভোট পেয়ে লড়াইয়ে চতুর্থ স্থানে ছিটকে গিয়েছেন। এমনকি এই ফল ভাঙন ধরাল ডায়মন্ড হারবার মডেলেও। তবে তৃণমূলের এই ভরাডুবির বাজারে ফলতায় চমকপ্রদ উত্থান ঘটেছে বামেদের। তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম।

গত ২১ মে ফলতায় ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে বেনজির অশান্তি ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। তার পুনরাবৃত্তি রুখতে গত বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তায় পুনর্নির্বাচন করায় নির্বাচন কমিশন। গণনা শেষে দেখা যায়, বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬টি ভোট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিপিএম পেয়েছে ৪০,৬৪৫টি ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ১০,০৮৪টি ভোট এবং একদা শাসকদল তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৭,৭৮৩টি ভোট। 

গত লোকসভা নির্বাচনেও যে কেন্দ্রে তৃণমূল ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটের ‘লিড’ পেয়েছিল, সেখানে এই বিপর্যয় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মূলত ভোটের প্রচারের শেষ দিনে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পরই মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়। আইনি জটিলতায় ব্যালটে নাম থাকলেও ভোটের দিন জাহাঙ্গিরের বাড়ির দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়, যা কার্যত তৃণমূলের আগাম আত্মসমর্পণকেই স্পষ্ট করেছিল।

এই ঐতিহাসিক জয়কে স্বাগত জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে ভোটারদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লেখেন, “ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। বিজেপির প্রার্থীকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম, জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পেরিয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে এই ঋণ শোধ করব।” 

এর পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবার মডেলকে ‘হার-বার মডেল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি আরও যোগ করেন, “একটি নীতি-আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। ১৫ বছর পর মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা পেতেই আসল বাস্তব সামনে এল।”

বিজেপির এই হঙ্কার ও কটাক্ষের মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলাফল প্রকাশের পর ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এটা নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও গোটা শাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিজেপি ভোট লুট করেছে।” আগামী জুনের শুরুতেই বিরোধী জোট এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে রুখে দাঁড়াবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

অন্য দিকে, ভোটের আগে “১০ জন্মেও গুজরাট গ্যাং ডায়মন্ড হারবার মডেলে আঁচড় কাটতে পারবে না” বলে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গণনার গতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৪ মে যেখানে দুপুর সাড়ে ৩টে পর্যন্ত মাত্র ২-৪ রাউন্ডের গণনা হয়েছিল, সেখানে আজ একই সময়ে ২১টি রাউন্ড শেষ হয়ে গেল কীভাবে, তার জবাব দিক কমিশন। 

পাশাপাশি গত ১০ দিনে ১ হাজারের বেশি তৃণমূল কর্মীকে ঘরছাড়া করা এবং পার্টি অফিস ভাঙার পরেও কমিশনের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সিসিটিভি-র নিরপেক্ষ তদন্ত ও আধিকারিকদের জবাবদিহি না হওয়া পর্যন্ত এই জনাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন