সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে একাধিক যুগান্তকারী পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কল্যাণীতে নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি– এই তিন জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক করেন তিনি। মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপস্থিতিতে হওয়া এই মেগা বৈঠক শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ জনমুখী প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও রূপান্তরের ঘোষণা দেন। যার মধ্যে অন্যতম, 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' থেকে 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার'-এ রূপান্তর এবং মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে দ্রুত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে কনভার্ট বা স্থানান্তরিত করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। আগামীকাল, বুধবার বিকেলবেলা নবান্ন থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই নতুন প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ করবেন। আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন এবং অফলাইন– দুই মাধ্যমেই ফর্ম পাওয়া যাবে।
ফর্ম পূরণ ও এনরোলমেন্ট যত দ্রুত সম্পন্ন হবে, উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে তত দ্রুত ৩,০০০ টাকা ট্রান্সফার করা শুরু হবে। যতক্ষণ না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩,০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মহিলারা আগের মতোই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতে থাকবেন। কোনো সুবিধা বন্ধ হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, এই প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই পাবেন, কোনো অভারতীয় বা অনুপ্রবেশকারী এর সুযোগ পাবেন না। এর পাশাপাশি, মহিলাদের যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করতে সরকারি বাসে বিনামূল্যে সফরের বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এই বিষয়ে আলোচনা সেরে বিনামূল্যে পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। তবে পরবর্তীকালে মহিলাদের জন্য বিশেষ ট্রাভেল কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।
পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে আগামী সপ্তাহ থেকে বন্ধ হচ্ছে পুরোনো ‘মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন’ কর্মসূচি। তার জায়গায় সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ও নতুন নম্বরে চালু হচ্ছে ‘আপনার সরকারকে বলুন’ হেল্পলাইন। খুব শীঘ্রই এর নতুন নম্বরটি জনগণের জন্য প্রকাশ করা হবে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিকাঠামোয় বড়সড় রদবদল এনে আয়ুষ দপ্তরকে মূল স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে, রাজ্যের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এ কনভার্ট করার কাজ শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে আগামী ৮ জুন রাজ্য সরকারের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লি যাচ্ছেন। তবে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলাকালীনও সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসাথীর সমস্ত সুবিধা পুরোদমে পাবেন।
তাছাড়া, দরিদ্র মানুষের জন্য পরিচালিত ‘মা ক্যান্টিন’ নিয়ে আকর্ষণীয় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন থেকে মা ক্যান্টিনে মিলবে মাছ-ভাত। সপ্তাহে ২ দিন মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে এই পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হবে। আপাতত রাজ্যে এই ক্যান্টিনের সংখ্যা ৪০০-র কাছাকাছি রাখা হচ্ছে।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আমরা পাঁচ বছরে কোনো প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পাইনি। কিন্তু আমরা ঠিক করেছি দলমত নির্বিশেষে সব বিধায়কদের ডাকব।" এদিনের বৈঠকে বিরোধী দলের ৬ জন বিধায়ক (হাড়োয়া, দেগঙ্গা, বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর, বসিরহাট দক্ষিণ) উপস্থিত ছিলেন।
শুধু তাই নয়, বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও বৈঠকে যোগ দিয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করেন, যা রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এক নতুন সৌজন্যের নজির গড়ল। শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির পর এবার মেদিনীপুর ও হাওড়াতেও এমন বড়সড় প্রশাসনিক বৈঠক করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন