Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

আইপিএল শেষে কেকেআর-এর চরম অসন্তোষ, আগামী মরসুমে বাদ পড়তে পারেন দলের এই ৫ তারকা

 

Discontent-at-KKR

সমকালীন প্রতিবেদন : মরসুম শুরুর আগে থেকেই চোট-আঘাতের অভিশাপ তাড়া করে বেড়িয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। বিশেষ করে দলের বোলিং বিভাগ বারবার ধাক্কা খেয়েছে। অক্রিকেটীয় কারণে বাংলাদেশের জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে না পাওয়াটাও ছিল এক বড় ক্ষতি। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়েও কাগজে-কলমে যথেষ্ট শক্তিশালী দল গড়েছিল নাইট ব্রিগেড। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন ঘটেনি। লিগ টেবিলে সাত নম্বরে শেষ করার পর স্বাভাবিকভাবেই চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ কেকেআর কর্তৃপক্ষ। দল পরিচালন সমিতির প্রধান বেঙ্কি মাইসোররা স্পষ্টতই হতাশ। সূত্রের খবর, দলের পাঁচ জন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সে এতটাই অসন্তুষ্ট ম্যানেজমেন্ট যে, আগামী মরসুমের দলে তাঁদের থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

৩৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ অজিঙ্কা রাহানে টানা দু’বছর কেকেআর-কে নেতৃত্ব দিলেন, কিন্তু দু’বারই দলকে সফল করতে ব্যর্থ হলেন। গত মরসুমে আট নম্বরে শেষ করার পর এ বার দল শেষ করল সাতে। রাহানের মন্থর ও গতানুগতিক নেতৃত্ব নিয়ে নাইট ম্যানেজমেন্টের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দুর্বলতা বারবার সামনে এসেছে। বেশ কিছু ম্যাচে বোলিং পরিবর্তন এবং ফিল্ডিং সাজানো নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বোলারদের সঠিক ব্যবহার বা দলের প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে ব্যাটার হিসেবে ১৪ ম্যাচে ৩৩৫ রান (স্ট্রাইক রেট ১৩৫.০৮) সন্তোষজনক হলেও, যে নেতৃত্বের ভরসায় তাঁকে নেওয়া হয়েছিল, সেখানেই তিনি ব্যর্থ। আগামী বছর ৩৮-এ পা দিতে চলা রাহানেকে আর ধরে রাখার কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না কেকেআর।

অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা খরচ করে দলে শামিল করেছিল কেকেআর। কিন্তু বেঙ্কি মাইসোরদের মতে, গ্রিন তাঁর আকাশছোঁয়া মূল্যের বিন্দুমাত্র মর্যাদা দিতে পারেননি। ব্যাট বা বল—কোনো বিভাগেই তিনি দলের ত্রাতা হতে পারেননি। ১৪টি ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৩২২ রান। চোটের কারণে প্রথম চারটি ম্যাচে বলই করতে পারেননি, আর পরের ১০টি ম্যাচে মাত্র ৭টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন। দলের কোনো জয়েই তাঁর উল্লেখনীয় অবদান ছিল না। ফলে এত বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করে গ্রিনকে আগামী মরসুমে দলে রাখার কোনো সম্ভাবনা নেই।

চলতি মরসুমে কেকেআরের বোলিং বিভাগের অন্যতম বড় ব্যর্থতার নাম বৈভব অরোরা। হর্ষিত রানা বা মাথিশা পাথিরানাদের অনুপস্থিতিতে কোচ অভিষেক নায়াররা বৈভবের ওপর যে বিপুল ভরসা রেখেছিলেন, তিনি তার মর্যাদা দিতে পারেননি। উল্টে ম্যাচের পর ম্যাচ রান বিলিয়ে দলকে ডুবিয়েছেন। গোটা প্রতিযোগিতায় ১১টি উইকেট পেলেও তাঁর ইকোনমি রেট (ওভার প্রতি ১০.২৬ রান) ছিল অতি নিম্নমানের। বাধ্য হয়ে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তাঁকে প্রথম একাদশ থেকে বাদ দিতে হয়। আগামী মরসুমে তাঁর রিলিজ হওয়া একপ্রকার নিশ্চিত।

শ্রীলঙ্কার ‘বেবি মালিঙ্গা’ মাথিশা পাথিরানাকে নিয়ে কেকেআর কর্তৃপক্ষের মোহভঙ্গ ঘটেছে। ১৮ কোটি টাকা খরচ করে তাঁকে কেনা হলেও, মরসুমের বেশিরভাগ সময় তিনি মাঠের বাইরেই কাটলেন। চোটের জন্য আইপিএলের প্রথমার্ধে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। পরে এলেও ফিটনেস সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৬ মে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামানো হলেও মাত্র ১.২ ওভার বল করেই আবার চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। এই চোট-আঘাতের দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে আগামী মরসুমে পাথিরানাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নাইট কর্তৃপক্ষ।

রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে ম্যাচের শেষ দিকে ঝড় তোলার কথা ছিল রমনদীপ সিংয়ের। কিন্তু গোটা আইপিএলে বলার মতো একটা ইনিংসও খেলতে পারেননি তিনি। পুরো প্রতিযোগিতায় মাত্র ৬৮টি বল খেলার সুযোগ পেয়ে তিনি মারেন মাত্র ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যুগে শেষ ওভারে ব্যাট করতে নেমে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল মোটে ১২০.৫৮, যা দল পরিচালন সমিতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ব্যর্থতার কারণে মাঝপথেই তাঁকে প্রথম একাদশ থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছিল, এবং আগামী বছরও তাঁর কেকেআর-এর জার্সি গায়ে তোলার আশা প্রায় শেষ।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন