Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

১০ ও ২০ টাকার টেকসই ‘পলিমার’ নোট আনছে কেন্দ্র, সবুজ সংকেত দিল আরবিআই

Polymer-Notes

সমকালীন প্রতিবেদন : পকেটে থেকে যাওয়া নোট জলে নষ্ট হওয়া কিংবা কিছুদিন ব্যবহারের পরেই ছিঁড়ে-পচে যাওয়ার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। ভারতীয় বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে দীর্ঘস্থায়ী প্লাস্টিক বা ‘পলিমার’ ব্যাংকনোট। প্রাথমিক দফায় ১০ টাকা এবং ২০ টাকার নোট দিয়েই এই আধুনিক সফরের সূচনা করতে চলেছে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)।

সোমবার লোকসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানিয়েছেন, আরবিআই-এর সেন্ট্রাল বোর্ডের পাঠানো ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোটের ফিল্ড ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক ব্যবহারের প্রস্তাবে কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে। আরবিআই আইন, ১৯৩৪-এর ২৫ নম্বর ধারা মেনেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 

জানা গেছে, পরীক্ষামূলক ট্রায়ালের জন্য ১০ টাকার ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) এবং ২০ টাকার ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) পিস পলিমার নোট ছাপানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ট্রায়াল সফল হলে পরবর্তীতে বাজারে এটি নিয়মিত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে কাগজের নোট রাতারাতি তুলে নেওয়া হচ্ছে না; বরং প্লাস্টিকের নোট কাগজের পাশাপাশিই বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোটের স্থায়িত্ব বহুগুণ বেশি। এটি জলে ভেজে না, সহজে ছেঁড়ে না এবং দীর্ঘদিন পরিষ্কার থাকে। আরবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর সোয়েল্ড বা ছেঁড়া-ফাটা নোট বাতিল করা এবং নতুন নোট ছাপানোর পেছনে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। কেবল ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেই কাগজের নোট ছাপাতে সরকারের খরচ হয়েছে ৬,৩৭২ কোটি টাকা এবং প্রায় ২,৩৮০ কোটি নষ্ট নোট বাজার থেকে তুলে ধ্বংস করতে হয়েছে। পলিমার নোট চালু হলে নোট পুনর্মুদ্রণের এই বিপুল খরচে বড়সড় রাশ টানা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ইউপিআই এবং ডিজিটাল লেনদেন সত্ত্বেও দেশে নগদ টাকার চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাজারে রেকর্ড ৪২.৮৬ লক্ষ কোটি টাকার নগদ লেনদেন চলছে, যার মধ্যে দৈনন্দিন খুচরো কেনাকাটায় ১০ ও ২০ টাকার নোটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে এই ছোট নোটগুলি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে নতুন প্লাস্টিক নোট আনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, ভারতে প্লাস্টিক নোটের এটি প্রথম চেষ্টা নয়। এর আগে ২০১২ সালে ইউপিএ আমলেও পাঁচটি শহরে ১০ টাকার প্লাস্টিক নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তৎকালীন এটিএম প্রসেসিং ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় তা আটকে যায়। এবার সেই সমস্ত প্রযুক্তিগত খামতি দূর করেই এগোনো হচ্ছে। 

১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম পলিমার নোট চালু করেছিল। বর্তমানে সিঙ্গাপুর, কানাডা, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে সাফল্যের সাথে পলিমার নোট ব্যবহৃত হচ্ছে। এবার সেই আধুনিক ও টেকসই কারেন্সি ব্যবস্থার অংশ হতে চলেছে ভারতও।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন