Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

গায়ের রং কালো হওয়ায় অভিনেত্রী শ্রুতি দাসকে শুনতে হয়েছিল হাজার গঞ্জনা

Shruti-Das

সমকালীন প্রতিবেদন : বারংবার আঘাত, একের পর এক রিজেকশনের পর জিতে যাওয়ার কাহিনীর অপর এক নাম শ্রুতি দাস। অভিনয় দক্ষতা সত্ত্বেও গায়ের রঙের অজুহাতে তাঁকে প্রায় কোণঠাসা করেছিল ইন্ডাস্ট্রি। নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ট্রোল করতে ছাড়েননি। 

শ্রুতির শেষ ধারাবাহিক ‘দেশের মাটি’-তে শুধুমাত্র তাঁর গায়ের রঙের কারণে কিছু মূর্খ নেটিজেন নায়িকা বদলের দাবি করেছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন শ্রুতি। 

এখন তিনি জি বাংলার পর্দায় অভিনয় করছেন ‘রাঙা বউ’-এর চরিত্রে। ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে সাড়া পড়ে গিয়েছে এই নতুন ধারাবাহিকটি। কিন্তু তার এই সফল জীবনের পিছনেও রয়ে গেছে একটা লড়াইয়ের গল্প। 

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরে জন্ম তাঁর। কাটোয়া শহরেই বড়ো হয়ে ওঠা। স্কুল জীবন থেকে শুরু করে নাচ, থিয়েটার ওখানেই শেখা তাঁর। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। 

একদিকে পড়াশোনা, অন্যদিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছে। এই দুইয়ের মাঝে যখন চূড়ান্ত টানাপোড়েন তাঁর জীবনে, ঠিক তখনই বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলে নতুন মুখের খোঁজ চলছিল। সেখানে অডিশন দেন শ্রুতি দাস। 

নিজের যোগ্যতায় সুযোগ পেয়ে যান ত্রিনয়নী ধারাবাহিকে। এই ধারাবাহিকর মাধ্যমে শুরু হয় অভিনয় জীবনের পথ চলা। সেখান থেকে পরিচিতি পেতে থাকেন তিনি। হয়ে ওঠেন সফল অভিনেত্রী। আর এভাবেই কাটোয়ার মেয়েটি সারা বাংলার মানুষের মনে জায়গা করে নেন। 

তবে এরপরই তাঁকে নিয়ে শুরু হয় নানা সমালোচনা। গায়ের রং নিয়ে বিস্তর কথা শুনতে হয় তাঁকে। তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও তাকে নিয়ে কুমন্তব্য করেছেন। তবে সেসবের বিরুদ্ধে চরম মানসিক লড়াই করেছেন শ্রুতি। 

'কালো মেয়ে'‌ শোনার মতো সহ্য ক্ষমতা তৈরি হয় তাঁর মনে। আর সেখান থেকে তিনি ঠিক করে নেন যে, এই শ্যামলা বর্ণ নিয়েই তিনি জয় করবেন মানুষের মন। এখন সেটাই করে চলেছেন তিনি প্রতিটি মুহূর্তে। জীবনের লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সফল তিনি। 

তাই খুব বেশিদিন লাগেনি তাঁর 'কাটোয়ার শ্রুতি' পরিচয় থেকে 'অভিনেত্রী শ্রুতি দাস'‌ হওয়ার মাঝে। হয়তো তাঁর এই লড়াই আরও অনেককেই পথ দেখাবে আগামীর কিছু কঠিন লড়াই লড়তে। 





‌‌‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন