সমকালীন প্রতিবেদন : বৃহত্তর সমাজে আরো বেশি বেশি করে মানুষের কাজ করার সুযোগ নিতে ডাক্তারি ছেড়ে ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় ইতিমধ্যেই সাফল্য লাভ করেছেন। এবার আরো একধাপ এগিয়ে সর্বভারতীয় পরীক্ষাতেও সাফল্য পেলেন উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা দেবজ্যোতি হালদার।
বরাবরই মেধাবী দেবজ্যোতি মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পর জয়েন্ট এন্ট্রান্স এর মাধ্যমে ডাক্তারি পড়তে কলকাতার আরজিকর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ২০২১ সালে সেখান থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ডাক্তারি পড়ার সময় করোনাকালে বহু মানুষের চিকিৎসা করেছেন। আর এই সময় তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাজের অভিজ্ঞতা আরও সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
আর তখনই তাঁর মনে হয়েছে, চিকিৎসা শাস্ত্রের মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হলেও, সমাজের বৃহত্তর পরিসরে আরো বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছাতে, বেশি করে সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হলে সরকারি বড় পদাধিকারী হওয়া প্রয়োজন। মনের সেই তাগিদ থেকেই ২০২৩ সালে ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় বসেন। দিন কয়েক আগে তার ফলাফল প্রকাশিত হয়। দেখা যায় তাতে তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। যেহেতু আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনের কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল, তাই তিনি সেই অপশনটি বেছে নেন।
তবে তাঁর জার্নি এখানেই থেমে থাকেনি। ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই তিনি মোট পাঁচবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। পাঁচবারই প্রথম ধাপ অর্থাৎ প্রিলিতে উত্তীর্ণ হলেও চারবার মেন্স পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। অবশেষে শেষবার সেই গণ্ডিও পার হতে সক্ষম হন দেবজ্যোতি। গত ৬ মার্চ ২০২৫ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। আর সেখানে তাঁর র্যাঙ্ক হয়েছে ৪৪৩ তম।
দেবজ্যোতির এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কলকাতার সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর সিভিল সার্ভিস স্টাডি সেন্টারের ভূমিকা। এখানেই তিনি লাগাতার অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে একের পর এক সাফল্যের গণ্ডি পেরোতে সক্ষম হয়েছেন। ডব্লিউবিসিএস–এ ডিএসপি পদে যোগদানের জন্য তাঁর সিলেকশন ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। প্রশিক্ষণ শুরুর আগে বাকি প্রক্রিয়া চলছে।
এই অবস্থায় ইউপিএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ায় বর্তমানে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত দেবজ্যোতি। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি। সর্বভারতীয় পরীক্ষায় আরও ভালো ফল করার জন্য আর একটিবার সুযোগ পাবেন তিনি। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি পরিশ্রম করে ইউপিএসসি পরীক্ষায় নিজের র্যাঙ্ক আরও বেশি করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান দেবজ্যোতি হালদার।
উল্লেখ্য, দেবজ্যোতির বাবা তাপস হালদার একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। মা রমা হালদার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক কাজের মানসিকতা তৈরি হয়েছে পরিবার থেকেই। দেবজ্যোতির ঠাকুমা সেই সময় এলাকায় স্কুল গড়ে তোলার জন্য জমি দান করেছিলেন। এখনো সেই স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন এলাকার পড়ুয়ার। স্বাভাবিকভাবেই পরিবার থেকে সামাজিক কাজের মানসিকতার বীজ বপন হয়েছে দেবজ্যোতির অন্তরে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন