Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

Friday, 24 September 2021

কোভিড শিক্ষাকে ছিনিয়ে নিল

Kovid-snatched-the-education

কোভিড শিক্ষাকে ছিনিয়ে নিল

অজয় মজুমদার

২০২০ সালের মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে আমাদের দেশ কোভিডের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। পৃথিবী জুড়ে সেই থেকেই বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ৷ এক এক করে সব দেশেই শিক্ষাঙ্গন খুলে গেলেও আমাদের দেশে তা এখনও হয় নি। ভার্চুয়াল শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আর যাই হোক বিজ্ঞান শিক্ষা কিন্তু থমকে রয়েছে ৷ 

প্রাথমিক শিক্ষায় যে সমস্ত শিশু সবে বিদ্যালয়স্তরে বর্ণ শিক্ষা শুরু করেছিল, তারা কিন্তু এই ৫৫০ দিনে সবকিছু ভুলে, ভবঘুরের মত দিকে দিকে ঘুরতে থাকলো। বিদ্যালয় খুললেও শূন্যই থাকবে তাদের উপস্থিতি ৷ তারা ড্রপ আউট তালিকায় চলে গেলো ৷ তাদের হাজার চেষ্টা করেও বিদ্যালয়মুখী করে তোলা সম্ভব হবে না ৷ কিভাবে গণশিক্ষা বিস্তার করা হবে, সেই বিষয়ে কেউই সঠিক ব্যাখ্যায় যেতে পারবে না। শুধু একটা কথাই আমরা জানি, কোভিডে স্তব্ধ বিদ্যালয়। কতদিন এই পরিস্থিতি চলবে, তা কেউ জানে না। 

এবার বিজ্ঞান শিক্ষার কথায় আসা যাক। প্রাকটিক্যাল ছাড়া বিজ্ঞান শিক্ষা' অসম্ভব। কিন্তু ভার্চুয়াল শিক্ষায় সেই প্রাকটিক্যালটা পুরোপুরি বন্ধ। দিনের পর দিন পাঠ্যক্রম এগিয়ে চলেছে ৷ পরীক্ষা চলছে বাড়ি বসে ৷ বই এর সাহায্য নিয়ে ছাত্ররা পরীক্ষা দিচ্ছে ৷ ঝুড়ি ঝুড়ি নম্বর দেওয়া হচ্ছে। তাতে শিক্ষা কিন্তু মুখ থুবড়ে পড়ছে। প্রাকটিকাল এর সঙ্গে থিওরির যদি মিল না থাকে, তাহলে সেই বিজ্ঞান শিক্ষা অপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ এবং অবান্তর থেকে যায় ৷ প্রতি দিনের মূল্যায়ন না হলে শিক্ষার পূর্নতা আসে না ৷ এক কথায় কোয়ালিটি তৈরী হয় না। 

তা হলে এই সময় দাড়িয়ে কি করা উচিৎ ? অন্তত তিনদিন করে পড়ুয়াদের বিদ্যাল‌য়ে আনা খুব জরুরী ৷ প্রয়োজন হলে কোভিড বিধি মেনেই প্রত্যেকদিন শিক্ষাঙ্গনে আনতে হবে। তাত্ত্বিক জ্ঞান এর সঙ্গে প্র্যাকটিক্যালের মিলন ঘটাতে হবে ৷ শুধু প্রজেক্ট চাপিয়ে দিলে হবে না, প্রজেক্ট ছাত্ররা নিজেরা করছে কিনা, সে দিকে নজর দিতে হবে। এইভাবে একটা চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে আর যাই হোক শিক্ষার কোনও উন্নতি হয় না ৷ অনেক বেশি হাতে কলমে শিক্ষার প্রয়োজন। 

যে সমস্ত বিষয় ব্যবহারিক কাজে প্রয়োজন হবে, শিক্ষাকে প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানেই নিয়ে যেতে হবে৷ শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা এবং সবাই এমএ পড়বে– এমন অপ্রয়োজনীয় শিক্ষার কি কোনও প্রয়োজন আছে? আমাদের মতো দেশে এইরকম অপ্রয়োজনীয় শিক্ষা পৃথিবীর আর কোনও দেশে আছে বলে মনে হয় না ৷ 

এই মুহূর্তে তাকানো যাক ইজরাইলের ও কিউবার  দিকে। সেখানকার শিক্ষা পুরোপুরি হাতে-কলমে ৷ বসে আছি বলে এমএ-তে ভর্তির শিক্ষা নয়। ভালোবাসার শিক্ষাই প্রয়োজনের শিক্ষায় পরিনত হতে পারে। এরপর আরও কত জীবানুযুদ্ধ পৃথিবীতে আসবে, কত পরীক্ষা–নিরীক্ষার বীজ ছড়িয়ে পড়বে, তার কোনও ঠিকানা নেই ৷ তাহলে কি আমরা শিক্ষাহীন অবস্থায় চলতে থাকবো ? একথা আজকে ভাবার দিন এসে গেছে ৷ 


বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে ৷ আর কিছু অবৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনাকে প্রশ্রয় দিলে হবে না৷ বিশেষজ্ঞদের পূর্বভাগে এনে তাদের চিন্তাভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে ৷ শিক্ষাকে অনেক বৈজ্ঞানিক করে তুলতে হবে ৷ তবেই তো সেই শিক্ষা মানুষের প্রয়োজনে লাগবে, সভ্যতার প্রয়োজনে লাগবে‌। শুধু শুধু অশিক্ষা বাড়িয়ে লাভ কি ?



No comments:

Post a Comment