Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

দুর্গাপুজোয় বামেদের বুক স্টল নিয়ে জট কাটল না, হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ

 

Leftist-bookstall

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌দুর্গাপুজোয় বনগাঁ ও নৈহাটিতে বুক স্টল বসানোকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা অব্যাহত। পুজোর দ্বিতীয় দিনেও স্টল তৈরির অনুমতি না মেলায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। ফলে পুজোর দিনগুলিতে বামেদের বইয়ের স্টল বসানো নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। তবে মামলাটি অন্য এজলাসে পাঠানোর বিষয়ে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।

সিপিএমের অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও নৈহাটিতে দুর্গাপুজোর সময় বইয়ের স্টল তৈরির জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তরফে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পুজোর সময় এই স্টল বসানোর রীতি থাকলেও এ বছর অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন বাম নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, পুজোর সময় সাধারণ মানুষের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া এবং সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার ঘটানোই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

সোমবার মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতে বলেন, প্রতিবছর দুর্গাপুজোর আগে উদ্যোক্তারা এই বুক স্টল করে থাকেন। কিন্তু এবার অনুমতি না মেলায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, প্রতিবছর স্টল বসানোর পক্ষে কোনও নথিপত্র রয়েছে কি না। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজোর আগে এই মামলার জরুরি শুনানির প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না। একই সঙ্গে বিচারপতি পরামর্শ দেন, দুর্গাপুজোয় অনুমতি না মিললে কালীপুজোর আগে স্টল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

তবে পুজোর পরে মামলার আর কোনও কার্যকারিতা থাকবে না বলে পাল্টা যুক্তি দেন সিপিএমের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, এখনই অনুমতি না পেলে চলতি দুর্গাপুজোয় বুক স্টল বসানোর সুযোগ কার্যত হাতছাড়া হবে। সেই কারণে মামলাটি অন্য কোনও বিচারপতির এজলাসে পাঠানোর আবেদন জানান তিনি। বিচারপতি জানান, মঙ্গলবার মামলাটি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী ১৩ অক্টোবর আবেদনটি বিবেচনার সময় এই বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

এদিকে, বনগাঁয় বুক স্টল তৈরিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ সিপিএমের। যশোর রোডের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পুজোর দিনগুলিতে বইয়ের স্টল করে আসছেন বাম কর্মীরা। এ বছরও স্টল তৈরির জন্য কাঠ ও বাঁশ-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী জোগাড় করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। কিন্তু অভিযোগ, হিন্দু সংহতি মঞ্চের একদল কর্মী সেই সামগ্রী সরিয়ে সেখানে নিজেদের স্টল তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাম নেতারা আক্রান্ত হন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এই বিতর্কের মধ্যেই দুর্গাপুজোয় বামেদের বুক স্টল নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। পুজোর নামকরণ ও স্টলের অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও বনগাঁ ও নৈহাটির ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সিপিএম নেতৃত্ব।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন