Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

সুপারি আমদানিতে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ, বেনারস থেকে গ্রেফতার এক

 

Betel-nut-import

সমকালীন প্রতিবেদন : ইন্দোনেশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ সুপারি আমদানি করে তা বাংলাদেশি পণ্য হিসেবে ঘোষণা ‌করার অভিযোগ উঠল। এই কৌশলে সরকারের বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় তদন্তে নেমে এক অভিযুক্তকে ভিন রাজ্য থেকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স। ধৃতের নাম সঞ্জয় গুপ্তা। বুধবার তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তিন দিনের ডিআরআই হেফাজতের নির্দেশ দেন।

ডিআরআই সূত্রে জানা গেছে, বেনারস থেকে সঞ্জয় গুপ্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, একটি চক্রের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে সুপারি আমদানি করা হত। কিন্তু প্রকৃত উৎস গোপন করে সেই সুপারিকে নথিপত্রে বাংলাদেশি পণ্য হিসেবে দেখানো হত। আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের উৎস সম্পর্কে মিথ্যা ঘোষণা করে শুল্কের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া বা এড়িয়ে যাওয়াই ছিল এই কারবারের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন আধিকারিকরা।

ডিআরআই-এর দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩১৭০ মেট্রিক টন সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে এমন অনিয়মের সন্ধান মিলেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের প্রায় ২১৮ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। এত বড় অঙ্কের শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।

তদন্তকারীদের অনুমান, শুধু একজনের পক্ষে এত বড় পরিমাণ পণ্য আমদানি ও তার উৎস সংক্রান্ত নথিতে কারচুপি করা সম্ভব নয়। ফলে এই কারবারের পিছনে আরও কোনও ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক সংস্থা জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমদানির নথিপত্র, পণ্যের প্রকৃত উৎস এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের যাবতীয় তথ্য পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে অভিযুক্তের সঙ্গে আর কার কার যোগাযোগ ছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

বুধবার সঞ্জয় গুপ্তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় ডিআরআই। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে আদালতকে জানানো হয়। শুনানি শেষে বিচারক অভিযুক্তকে তিন দিনের ডিআরআই হেফাজতের নির্দেশ দেন। অভিযুক্তের আইনজীবী সমীরণ মাহাতো বলেন, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ডিআরআই ভিন রাজ্য থেকে একজনকে গ্রেফতার করেছে। 

প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ সুপারি আমদানি এবং কয়েকশো কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা পণ্য কীভাবে বাংলাদেশি হিসেবে ঘোষণা করা হল, এই প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত এবং এর মাধ্যমে আর কত টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, এখন সেই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজছে ডিআরআই। তদন্ত এগোলেই এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন