সমকালীন প্রতিবেদন : মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ব্যাট হাতে ক্রিকেটবিশ্বের নজর কেড়েছে বৈভব সূর্যবংশী। অল্প বয়সে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং এবং দ্রুত রান তোলার ক্ষমতায় মুগ্ধ প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমীরা। এই কিশোর প্রতিভার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতের প্রাক্তন ওপেনার বীরেন্দ্র সহবাগও। তবে বৈভবের প্রতিভা নিয়ে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর সীমিত সুযোগ পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। সহবাগের মতে, ক্রিকেটারের বয়স নয়, দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত পারফরম্যান্স।
জাতীয় দলের হয়ে এখনও পর্যন্ত আটটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বৈভব। এই আট ম্যাচে ১৮৬ স্ট্রাইক রেটে তাঁর সংগ্রহ ২৪৬ রান। এমন পরিসংখ্যানের পরেও নিয়মিত প্রথম একাদশে জায়গা না পাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে। সহবাগ মনে করেন, বর্তমানে যে ছন্দে রয়েছে বৈভব, তাতে তাঁকে আরও বেশি ম্যাচে খেলার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে বৈভবকে নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার বলেন, বৈভবের খেলার ধরন অনেকটাই তাঁর নিজের মতো। প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পছন্দ করে এই তরুণ ক্রিকেটার। এখন দেখার বিষয়, ভারতীয় দলের হয়ে সে কতগুলি ম্যাচে খেলার সুযোগ পায়।
বৈভবকে নিয়মিত খেলানোর বিষয়ে অবশ্য ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় দলের ম্যানেজমেন্ট। কোচ গৌতম গম্ভীরের বক্তব্য, দলের অন্য ক্রিকেটারদের অবদান এবং দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্সকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর মতে, গত দেড় থেকে দু’বছর ধরে অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনের মতো ক্রিকেটাররা দলকে জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই তাঁদের বসিয়ে দিয়ে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। বৈভব দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও তাঁকে ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন গম্ভীর।
কিন্তু এই যুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন সহবাগ। তাঁর মতে, বয়সের কারণে কোনও ক্রিকেটারকে পিছিয়ে রাখা উচিত নয়। বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সসীমা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু আইপিএল কিংবা জাতীয় দলের মতো প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পারফরম্যান্সই হওয়া উচিত প্রধান মাপকাঠি।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বিরাট কোহলির উদাহরণও টেনেছেন সহবাগ। তাঁর যুক্তি, অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এবং তরুণ প্রতিভা– উভয়কেই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত। বয়স বেশি হলেই কাউকে যেমন বাদ দেওয়া যায় না, তেমনই বয়স কম বলেও কাউকে নিয়মিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। বৈভবের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগের পক্ষে তিনি।
এদিকে, শুভমন গিলের সাম্প্রতিক সাফল্যেও মুগ্ধ সহবাগ। এক দিনের ক্রিকেটে গিলের দ্বিতীয় দ্বিশতরানকে বিশেষ কৃতিত্ব বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ড সফরে সাতশোর বেশি রান করে সুনীল গাওস্করের নজির ছাপিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার। তাঁর মতে, বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেটে একাধিক প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে আসছেন, যাঁদের মধ্যে গিল অন্যতম।
আগামী বছরের বিশ্বকাপ নিয়েও আশাবাদী সহবাগ। তাঁর মতে, বিশ্বকাপে সাফল্য পেতে হলে ভারতের বোলিং আক্রমণকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে জসপ্রীত বুমরার মতো অভিজ্ঞ ও কার্যকর পেসার দলের বড় ভরসা। বোলাররা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ভারতীয় দলের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে বলে মনে করেন তিনি।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন