সমকালীন প্রতিবেদন : আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশের সমস্ত এনডিএ শাসিত রাজ্যে কার্যকর করা হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড। রবিবার মুম্বইয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে এই তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, দত্তক গ্রহণ ও উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত আইনি বিষয়গুলিতে এক ও অভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সাংবাদিক বৈঠকে গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ঝুলিতে থাকা একাধিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন অমিত শাহ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে ‘পারফরম্যান্স’ বা কাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গে কেন্দ্র সরকারের সাফল্য বর্ণনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে চলছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ার স্ট্রাইক এবং 'অপারেশন সিঁদুর'-এর মতো সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল, উত্তর-পূর্ব ভারতের দীর্ঘদিনের অশান্তির স্থায়ী সমাধান এবং দেশজুড়ে নকশালবাদ দমনের সাফল্যও তুলে ধরেন তিনি।
শাহের আত্মবিশ্বাসী বার্তা, ইতিমধ্যেই দেশের কয়েকটি রাজ্যে এই ঐতিহাসিক আইনের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১৫টি রাজ্যে বিজেপি এককভাবে এবং বাকি ৬টি রাজ্যে শরিকদের নিয়ে ক্ষমতায় রয়েছে। ২০২৯-এর নির্বাচনের আগেই এই ২১টি এনডিএ শাসিত রাজ্যে ইউসিসি-র চূড়ান্ত রূপায়ণ নিশ্চিত করা কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ২০২৯ সালে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে বিজেপির জন্য এই পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশল বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।
কেন্দ্রীয় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার বিষয়ে জোর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি সম্প্রতি দিল্লির বঙ্গভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক সম্পন্ন করেছে। এই বৈঠকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের পদস্থ আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড, গুজরাট ও অসমের মতো রাজ্যগুলিতে থাকা ইউসিসি-র মডেল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই বিশেষজ্ঞ কমিটির তৈরি করা চূড়ান্ত খসড়ার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে রাজ্য বিধানসভায় ইউসিসি বিল পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের মতোই এই বাংলাতেও সর্বজনীন দেওয়ানি আইন পাস করানো হবে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন