Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এসএসসি প্রশাসনে মেগা রদবদল: ৫ আঞ্চলিক কমিটিতে ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের হাতে শীর্ষ দায়িত্ব

 

School-Service-Commission

সমকালীন প্রতিবেদন : পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় সংস্কার ঘটাল নবান্ন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে এবার এসএসসির আঞ্চলিক দপ্তরগুলির শীর্ষপদে বসানো হলো অভিজ্ঞ ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের মেয়াদে এসব অঞ্চলে সাধারণত দলীয় বিধায়ক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা অধ্যাপকদের দায়িত্বে আনা হলেও, সেই ঐতিহ্য ভেঙে এবার পুরোদস্তুর আমলাদের হাতেই কমিশনের রাজ্য ও আঞ্চলিক ব্যাটন তুলে দিল সরকার।

কমিশনের মূল প্রশাসনিক পদে মুখ্যসচিব পর্যায়ের আধিকারিককে আনার পর, এবার রাজ্য জুড়ে পাঁচটি আঞ্চলিক স্কুল সার্ভিস কমিশনের সেক্রেটারি এবং সেন্ট্রাল কমিশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে অভিজ্ঞ ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের নিয়োগের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। 

উত্তর ২৪ পরগনা রিজিওনাল এসএসসির নতুন সেক্রেটারি হিসেবে নিযুক্ত হলেন ২০০৪ ব্যাচের আধিকারিক শ্রাবন্তী দাস। মালদা রিজিওনাল এসএসসি পদে দায়িত্ব পেলেন ২০০২ ব্যাচের ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক প্রলয় রায়চৌধুরী। বাঁকুড়া রিজিওনাল এসএসসির দায়িত্ব সামলাবেন ২০০৪ ব্যাচের ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক মিঠু সরকার। পূর্ব বর্ধমান রিজিওনাল এসএসসির পদে বসানো হলো ২০০৭ ব্যাচের পূর্ণিমা দে-কে।

অন্যদিকে, কলকাতা রিজিওনাল এসএসসির নতুন সেক্রেটারি হলেন ২০০৯ ব্যাচের ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক কাবেরী ঘোষ। সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের দপ্তরে জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০০৩ ব্যাচের ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক উজ্জ্বল সেনগুপ্ত-কে।

নবান্ন সূত্রে খবর, কমিশনকে বিতর্ক মুক্ত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই প্রশিক্ষিত প্রশাসনিক আধিকারিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক এই পদক্ষেপে অবশ্য পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, কেবল প্রশাসনিক অলংকরণ বা কাঠামোগত রদবদল ঘটিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

তৃণমূল জমানায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগ স্তব্ধ হয়ে থাকায় লক্ষ লক্ষ যোগ্য ও শিক্ষিত যুবক-যুবতী কর্মহীন হয়ে রয়েছেন, সেই জটিলতার বাস্তব নিরসন চাইছেন তাঁরা। চাকরিপ্রার্থীদের একটাই মূল দাবি, নতুন সরকারকে অবিলম্বে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন শিক্ষক নিয়োগের দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে এবং এই অচল অবস্থা কাটিয়ে যুবসমাজকে সঠিক দিশা দেখাতে হবে।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন