সমকালীন প্রতিবেদন : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে গত কয়েক মরসুম ধরে বিতর্ক সৃষ্টি করা ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মটি ঘিরে নতুন করে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। অতিরিক্ত সুবিধা এবং ব্যাটে-বলের ভারসাম্যের অভাব সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ২০২৭ সালের আইপিএল মরসুম শুরুর আগেই কি বিদায় নিতে চলেছে এই বিতর্কিত নিয়ম? সে বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করতে লিগের ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে তাদের সুস্পষ্ট মতামত চেয়েছে গভর্নিং বডি।
ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মটির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষস্থানীয় তারকারা। ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল থেকে শুরু করে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও অক্ষর প্যাটেলের মতো অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ও অধিনায়কেরা এই নিয়মের ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, এই অতিরিক্ত বদলি খেলোয়াড় নামানোর ব্যবস্থার ফলে দলে অলরাউন্ডারদের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। ব্যাটার বা বোলারদের উপর বাড়তি চাপ না থাকায় স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় দক্ষতার বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
‘ক্রিকবাজ’-এর সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অগস্টের মধ্যে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এই ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মসহ আম্পায়ারিং, অনুশীলনের সুবিধা ও অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে নিজেদের মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে। পূর্বে অধিনায়কদের বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, মরসুম শেষে এই মৌলিক পরিবর্তনগুলি পর্যালোচনা করা হবে।
বোর্ডের অন্দরমহল থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যাচ্ছে, যদি ১০টি দল একজোট হয়ে এই নিয়মের বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করে, তবে বোর্ড এটি পুরোপুরি রদ করার পথে হাঁটতে পারে। এর আগে অভ্যন্তরীণ ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট 'সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি' থেকেও ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়মটি তুলে নেওয়া হয়েছিল।
এই নিয়মটি নিয়ে বিসিসিআইয়ের অন্দরেও দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। পূর্বে বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকীয়া জানিয়েছিলেন, ক্রিকেটারদের জোরালো আপত্তি থাকলে বোর্ড বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে। তবে পরবর্তীতে তিনি কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখে দাবি করেন, এই নিয়মের ফলে খেলায় বৈচিত্র এসেছে এবং কম রানের রোমাঞ্চকর ম্যাচও দর্শকেরা উপভোগ করছেন।
বিগত মরসুমে একাধিক ম্যাচে ২০০ রানের গণ্ডি অনায়াসে পেরিয়ে যাওয়ার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ফলে বোলারদের ভূমিকা খাটো হয়ে পড়ছে বলে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিযোগ। তবুও বাণিজ্যিকভাবে এই নিয়ম দর্শকদের বিনোদন বাড়িয়েছে বলে একদল কর্মকর্তা মনে করেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছ থেকে লিখিত মতামত পাওয়ার পর আগামী পর্যালোচনা বৈঠকে বসবে বিসিসিআই। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে ২০২৭ সালের মরসুমে আদৌ এই নিয়মটি বহাল রাখা সঙ্গত হবে কি না, তা নির্ভর করছে ১০টি দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং ক্রিকেটারদের স্বার্থরক্ষার ওপর। ঘরোয়া ক্রিকেটের পর এবার বিশ্বমঞ্চের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট লিগ থেকেও এই নিয়ম চিরতরে বিদায় নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ক্রীড়ামহল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন