সমকালীন প্রতিবেদন : শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে পরিবেশন করা খাবারের গুণমান ও সার্বিক স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখতে ব্যাপক অভিযান চালাল বনগাঁ পুরসভা এবং রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। এলাকার পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে চরম অনিয়ম ধরা পড়ায় শহরের অত্যন্ত পরিচিত তিনটি বিরিয়ানির দোকান সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন পুরসভা ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা বিভিন্ন খাবারের দোকানের রান্নাঘর, খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নথিপত্র পরীক্ষা করেন। এই পরিদর্শনেই উঠে আসে একাধিক ত্রুটি।
বনগাঁ হাসপাতাল কালীবাড়ি সংলগ্ন এলাকার আফরিন বিরিয়ানিতে অভিযান চালানোর সময় আধিকারিকেরা দেখেন যে, দোকান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র ও ব্যবসায়িক লাইসেন্স নেই এই দোকান কর্তৃপক্ষের। আর সেই কারণে এই দোকানটি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বনগাঁর মতিগঞ্জ এলাকার হাজী বিরিয়ানি ও ইউটিউব বিরিয়ানির দোকানে পরিদর্শন চালিয়ে আধিকারিকরা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির প্রমাণ পান। স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে অলঙ্ঘন করার অভিযোগে তৎক্ষণাৎ দোকান দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দোকানে থাকা সমস্ত কাঁচামাল বাজেয়াপ্ত করা হয়।
অভিযানকারী আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, "অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণ মানুষের শারীরিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবং যথাযথ পরিচ্ছন্নতা বজায় না থাকায় মতিগঞ্জের দোকান দুটি বন্ধ করা হয়েছে। আর আফরিন দোকানে কাগজপত্র না থাকায় সেই বোকানটিও আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।"
এব্যাপারে হাসপাতাল কালীবাড়ি এলাকার ‘আফরিন’ বিরিয়ানি দোকান কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি তারা দোকানটি নতুন জায়গায় স্থানান্তর করেছেন। স্থান পরিবর্তনের কারণে বাড়িওয়ালার সঙ্গে চুক্তিপত্র তৈরির প্রক্রিয়াটি বকেয়া রয়েছে। ফলে ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরকারি কাগজপত্র সময়মতো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। মালিকপক্ষের আশ্বাস, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আইনানুগ সমস্ত কাগজপত্র তৈরি করে প্রশাসনিক নিয়ম মেনে পুনরায় দোকান চালুর ব্যবস্থা করবেন তাঁরা।
এই অভিযান সম্পর্কে বনগাঁ পুরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার জানিয়েছেন, বনগাঁর বেশ কিছু বিরিয়ানির দোকানদার সস্তায় বিরিয়ানি খাওয়ানোর নাম করে অস্বাস্থ্যকর জিনিস দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি বিক্রি করছে বলে বারে বারে অভিযোগ আসছিল। তারই প্রেক্ষিতে এই অভিযান। এর আগেও পুরসভার পক্ষ থেকে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই সতর্কতা না মানায় আপাতত তিনটি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন