Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বনগাঁয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান, রঙ মেশানো মাংস-মিষ্টি ফেলে দেওয়া হল ডাস্টবিনে

 ‌

Meat-mixed-with-dye

সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁর বিভিন্ন বাজারে খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখতে অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। রবিবার বনগাঁ নিউমার্কেট এবং ‌গ্যাঁড়াপোতা বাজারে অভিযান চালান দপ্তরের আধিকারিকেরা। সঙ্গে ছিল পুলিশ। অভিযানে একাধিক দোকানে খাবারে অনুপযোগী রং ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

এদিন প্রথমে বনগাঁ নিউমার্কেট এলাকার বেশ কয়েকটি মাছের দোকানে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা। বিশেষ নজরে ছিল সেই সমস্ত দোকান, যেখানে সারা বছর ইলিশ মাছ বিক্রি করা হয়। মাছের গুণমান পরীক্ষা করতে বিভিন্ন দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নমুনাগুলি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

এরপর গ্যাঁড়াপোতা বাজারে বিভিন্ন মিষ্টির দোকান এবং বিরিয়ানির দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে খাবারের মান ও দোকানের পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখতে গিয়ে বেশ কিছু অনিয়ম নজরে আসে আধিকারিকদের। অভিযোগ, কয়েকটি বিরিয়ানির দোকানে মাংস ও আলুতে এমন রং ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা মানুষের খাবারের জন্য অনুমোদিত নয়। একইভাবে কিছু মিষ্টিতেও অনুপযোগী রং ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

খাবারে এ ধরনের রং ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা। তাঁদের বক্তব্য, অনুমোদনহীন বা খাবারের জন্য অনুপযুক্ত রং শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকির সঙ্গেও এ ধরনের ক্ষতিকর রঙের ব্যবহারকে যুক্ত করা হয়।

অভিযানের সময় কয়েকটি দোকানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও নজরে আসে। কোথাও বাসি সিঙ্গারা ও লুচি রাখা ছিল, আবার কোথাও ফ্রিজের মধ্যে খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দোকানদারদের খাবার সংরক্ষণ, রান্নাঘর ও দোকান পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেন আধিকারিকেরা।

অভিযানের সময় রং মেশানো মাংস, আলু, মিষ্টি এবং বাসি খাবার সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর গামলা ভর্তি মাংস ও আলু এবং রং মেশানো মিষ্টি-সহ বিভিন্ন খাবার ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়। খাবারে কেন এমন রং ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে দোকানের পরিচ্ছন্নতার দিকে কেন নজর দেওয়া হয়নি, এই প্রশ্নেরও সদুত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট দোকানদারেরা।

অভিযানের পর দোকানদারদের একাংশ জানান, আগামী দিনে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের সমস্ত নির্দেশিকা মেনে চলবেন তারা। খাবারের মান বজায় রাখা এবং দোকান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।

একদিকে নিউমার্কেটের মাছের দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ, অন্যদিকে গ্যাঁড়াপোতা বাজারে অনুপযোগী রং মেশানো খাবার নষ্ট করার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দিনে এমন অভিযান আরও জোরদার হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন