সমকালীন প্রতিবেদন : বুকে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসার জন্য বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে আসা এক রোগীকে আধার কার্ড না থাকায় ভর্তি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠল হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আধার কার্ড চাওয়ার পর সেটি আনতে রোগীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান তাঁর আত্মীয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতালের গেটের সামনে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই রোগী। পরে তাঁকে ফের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত বলে জানান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত রোগীর নাম রেনু মণ্ডল। তিনি বনগাঁ এলাকার কালিয়াণী খেদাপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বোন সরস্বতী সরকার জানান, বুকে ব্যথা হওয়ায় রেনুকে নিয়ে তিনি বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসার পর তাঁকে ভর্তি করার প্রয়োজন হয় বলে দাবি পরিবারের। সরস্বতীর অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় কর্তব্যরত কর্মীদের তরফে আধার কার্ড চাওয়া হয়। আধার কার্ড সঙ্গে না থাকায় সেটি নিয়ে আসার জন্য তাঁকে বোনকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরোতে হয়।
তাঁর বক্তব্য, আধার কার্ড আনতে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতালের গেটের সামনে রেনু হঠাৎ পড়ে যান। এরপর আশপাশে থাকা কয়েকজনের সাহায্য চান সরস্বতী। তাঁদের সহযোগিতায় রেনুকে ফের হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, রেনু মারা গিয়েছেন।
ঘটনার পর হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মৃতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আসা একজন রোগীকে ভর্তি নেওয়ার ক্ষেত্রে আধার কার্ডের বিষয়টি সামনে আসায় তাঁকে হাসপাতালের বাইরে যেতে হয়েছিল। আর সেই সময়ই ঘটে বিপত্তি।
তবে পরিবারের এই অভিযোগের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গৌরী মণ্ডল জানান, ‘‘রোগী যখন ভর্তি হতে আসেন, তখন আধার কার্ড আছে কি না, তা না দেখেই আগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ওয়ার্ড থেকে কী বলা হয়েছিল, তা আমাদের জানা নেই। রোগী কখন হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, সেটাও আমাদের নজরে আসেনি।’’
ডা. গৌরী মণ্ডল আরও জানান, কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ওই রোগীকে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে আসেন। তখন পরীক্ষা করে দেখা যায়, রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একদিকে পরিবারের তরফে আধার কার্ড না থাকায় ভর্তি নিতে অস্বীকার করার অভিযোগ, অন্যদিকে চিকিৎসকের দাবি, আধার কার্ড দেখার আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। দুই পক্ষের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ছবি। ঠিক কী পরিস্থিতিতে রোগী হাসপাতালের বাইরে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন