সমকালীন প্রতিবেদন : পালাবদলের পর বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজো। আর সেই পুজোকে ঘিরে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই পুজোর সরকারি অনুদান, বিদ্যুৎ মাশুল, উদ্বোধন, বিসর্জন এবং পুজোর সময় একাধিক বিধিনিষেধ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
এ বছর দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় অনুদানের পরিমাণ কমল ১০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে তৎকালীন সরকার পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিল। তার আগে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে এই অনুদান ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।
তবে অনুদানের অঙ্ক কমলেও পুজো কমিটিগুলির জন্য অন্য একটি বড় সুবিধার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, এ বছর দুর্গাপুজোয় বিদ্যুৎ মাশুলে ১০০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পুজোর জন্য দমকল সংক্রান্ত কোনও খরচও লাগবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে বিশেষ আবেদন রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, যেসব পুজো কমিটি নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যে পুজো আয়োজন করতে সক্ষম, তারা যেন সরকারি অনুদান না নেয়। অন্যদিকে, যেসব ছোট বা আর্থিকভাবে দুর্বল পুজো কমিটির ক্ষেত্রে এই অর্থ প্রয়োজন, তারা নিয়ম মেনে আবেদন করলে সরকার ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেবে।
পুজোর উদ্বোধন নিয়েও এ দিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, মহালয়ার আগে কোনও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ বা প্রতিমার উদ্বোধন করা যাবে না। মাতৃপক্ষ শুরু হওয়ার পরই পুজোর উদ্বোধন হবে। মহালয়াকে কেন্দ্র করে ইডেন গার্ডেনে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি ভাবে পুজোর সূচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর এ বছর সেই আয়োজন থাকছে না। সোমবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এ বছর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল আয়োজন করা হবে না। তবে পুজো কমিটিগুলির সম্মান জানাতে সরকারি উদ্যোগে ‘শারদ সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠান করা হবে।
দুর্গাপুজোর সময় শব্দদূষণ নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুজো এবং বিসর্জন– দুই ক্ষেত্রেই ডিজে বাজানো যাবে না। পুজোর নামে উচ্চ শব্দে ডিজে বাজানোর অনুমতি কোনও ভাবেই দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুধু শব্দদূষণ নয়, পুজোর মণ্ডপের থিম ও সাজসজ্জা নিয়েও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমন কোনও থিম বা সজ্জা করা যাবে না, যাতে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
পুজোর মধ্যে মদ বিক্রি নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, মহাষ্টমীর দিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বার ও পানশালাতেও ওই দিন মদ বিক্রি করা যাবে না। এ বারের পুজোর বিসর্জনের সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজো হওয়ায় তার আগেই অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত প্রতিমার নিরঞ্জন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। বিসর্জনের কাজে ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন