সমকালীন প্রতিবেদন : পেট্রাপোল সীমান্তে বিদেশি যাত্রীদের টার্গেট করে মুদ্রা বিনিময়ের নামে প্রতারণা এবং ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার পেট্রাপোল থানার পুলিশ ইমিগ্রেশন প্যাসেঞ্জার গেট নম্বর ২-এর কাছে অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম ইব্রাহিম বিশ্বাস ওরফে মুন্না এবং আলমগীর মণ্ডল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই পেট্রাপোল বন্দরের মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করত ওই দুই ব্যক্তি। সীমান্ত দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী বিদেশি যাত্রী এবং পর্যটকদেরই মূলত নিশানা করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। যাত্রীদের মুদ্রা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করত অভিযুক্তরা। এরপর বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে নির্ধারিত হারের তুলনায় কম টাকা দেওয়া অথবা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, মুদ্রা বিনিময়ের সময় যাত্রীদের উপর নানা ভাবে চাপ তৈরি করা হতো। যাত্রীরা যাতে বিষয়টি নিয়ে বেশি প্রশ্ন করতে না পারেন, সেজন্য তাঁদের ভয় দেখানোরও চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগ। নিজেদের ইচ্ছেমতো বিনিময় হার চাপিয়ে দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হতো বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে। এর ফলে অনেক বিদেশি যাত্রী আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান।
অভিযোগ আরও গুরুতর হয়েছে পুলিশের নাম ব্যবহার করার ঘটনায়। পুলিশ সূত্রে দাবি, কোনও কোনও ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব দেখাতে বা যাত্রীদের ভয় পাইয়ে টাকা আদায়ের জন্য পুলিশের নাম নেওয়া হতো। সীমান্ত এলাকায় নতুন আসা কিংবা স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, এমন যাত্রীদের এইভাবে সহজেই চাপে ফেলার চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগ।
পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বহু যাত্রী যাতায়াত করেন। তাঁদের মধ্যে পর্যটক, ব্যবসায়ী-সহ বিভিন্ন ধরনের বিদেশি নাগরিক থাকেন। সীমান্ত পারাপারের পর মুদ্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় অনেকেরই। সেই প্রয়োজনকেই কাজে লাগিয়ে একটি চক্র যাত্রীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শুধুমাত্র এই দুই ব্যক্তিই এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত, নাকি তাঁদের পিছনে আরও একটি বড় চক্র রয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পেট্রাপোল বন্দরের মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের আশপাশে আরও কেউ সক্রিয় রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখত এবং আগে কতজন যাত্রীকে এইভাবে প্রতারণার শিকার করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পেট্রাপোল থানার পুলিশ ইমিগ্রেশন প্যাসেঞ্জার গেট নম্বর ২-এর কাছে নজরদারি চালায়। সেখানেই দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযুক্তদের কাছ থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতার হওয়া ইব্রাহিম বিশ্বাস ওরফে মুন্না এবং আলমগীর মণ্ডলকে বুধবার বনগাঁ আদালতে পেশ করে পেট্রাপোল থানার পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং অতীতে এমন কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, সেই তথ্য সামনে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন