Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউপিআই এর মাধ্যমে অনলাইন লেনদেনে অতিরিক্ত ফি বসানোর নির্দেশিকা ঘিরে বিতর্ক

 

UPI-transactions

সমকালীন প্রতিবেদন : ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাশলেস অর্থনীতির উপর জোর দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই নীতির মধ্যেই এবার অনলাইন পেমেন্টে অতিরিক্ত ফি বসানোর সম্ভাবনা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে দাবি উঠেছে, এবার থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট অর্থাৎ এমডিআর কার্যকর হতে পারে।

কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, এতদিন যে ইউপিআই ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও কম খরচের ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে ফি বসানোর মাধ্যমে সেই ব্যবস্থাতেই বড় পরিবর্তনের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। দলের একাধিক নেতা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

সূত্রের খবর, বাদল অধিবেশনেই ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’-এ সংশোধনী আনা হয়েছে। সেই সংশোধনীর মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনলাইন আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ফি আরোপের কাঠামো তৈরির সুযোগ রাখা হয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৩ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত ‌এমডিআর ধার্য হতে পারে বলে আলোচনা হয়েছে। 

তবে ঠিক কত হারে এবং কোন কোন লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ফি কার্যকর হবে, তার চূড়ান্ত কাঠামো এখনও স্পষ্ট নয়। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২২ সদস্যের একটি কমিটি এমডিআর-এর কাঠামো নির্ধারণ করবে। সেই কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পরেই অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে ফি আরোপের বিষয়টি কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট হতে পারে।

এমডিআর বা ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ হল ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া একটি নির্দিষ্ট ধরনের চার্জ। কোনও ব্যবসায়ী অনলাইনে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলে সেই লেনদেনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিষেবা প্রদানকারীকে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হতে পারে। সেই চার্জকেই বলা হয় এমডিআর।

ভারতে ইউপিআই লেনদেন ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হওয়ার পর সাধারণ গ্রাহকের ক্ষেত্রে এই ধরনের চার্জের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ২০২০ সালের পর থেকে ইউপিআই ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট-বড় ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রবণতাও অনেক বেড়েছে।

তবে এবার এমডিআর ফেরানোর উদ্যোগ ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, এর ফলে ডিজিটাল লেনদেনের খরচ শেষ পর্যন্ত কার উপর পড়বে। যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, ছোট ব্যবসায়ীদের এই অতিরিক্ত ফি-এর আওতায় আনা হবে না। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের উপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনও নির্ভর করছে চূড়ান্ত নিয়মের উপর।

কেন্দ্রের এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, আপাতত নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে ফি বসানোর ব্যবস্থা করা হলেও ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, একবার এমডিআর চালুর পথ তৈরি হলে পরবর্তীকালে আরও বেশি ধরনের ডিজিটাল লেনদেনকে এর আওতায় আনার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে বলে দাবি বিরোধীদের।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, মার্কিন সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের এমডিআর-মুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছে। তাঁর দাবি, বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই কেন্দ্র এই পথে এগোচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়তে পারে। কারণ ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ পণ্যের দাম বা পরিষেবার খরচের মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতার কাছ থেকে আদায় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অনলাইন পেমেন্টও যদি অতিরিক্ত চার্জের আওতায় আসে, তাহলে এতদিনের ক্যাশলেস অর্থনীতির নীতিতেই তার প্রভাব পড়বে বলে দাবি বিরোধী দলের।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন