সমকালীন প্রতিবেদন : মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে নাবালিকা বিবাহ রুখতে আরও সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ। তারই মধ্যে চাইল্ড হেল্পলাইনে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে নাবালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগে এক যুবক-সহ তার বাবা ও মাকে গ্রেফতার করল পেট্রাপোল থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পেট্রাপোল থানা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পেট্রাপোল থানার অন্তর্গত খলিতপুর এলাকার বাসিন্দা ২৭ বছরের বিক্রম বিশ্বাসের সঙ্গে প্রায় দেড় বছর আগে এক নাবালিকার বিয়ে হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিয়ের সময় ওই কিশোরীর বয়স ছিল ১৬ বছর। অর্থাৎ, বিয়ের সময় তিনি আইন অনুযায়ী নাবালিকা ছিলেন।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর নাবালিকা বিবাহের বিরুদ্ধে নজরদারি ও পদক্ষেপ আরও জোরদার হয়েছে। সেই সময় চাইল্ড হেল্পলাইনের তরফে ওই বিয়ের বিষয়ে পেট্রাপোল থানায় অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলার পর পেট্রাপোল থানার পুলিশ খলিতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিক্রম বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। একইসঙ্গে নাবালিকার বিয়েতে পরিবারের ভূমিকা থাকার অভিযোগে বিক্রমের বাবা বিষ্ণু বিশ্বাস এবং মা নীলিমা বিশ্বাসকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের এই পদক্ষেপের পর এলাকায় নাবালিকা বিবাহ রোধে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী নাবালিকা বিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি সামনে আসতেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া তিনজনকেই সোমবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করে পেট্রাপোল থানার পুলিশ। এই বিষয়ে নীলিমা বিশ্বাস দাবি করেন, পাবিবারিক অশান্তির জেরে ওই নাবালিকা সেইসময় পালিয়ে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে তার চাপেই একপ্রকার এই বিয়েতে রাজি হন তারা।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন