সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-এর কেন্দ্রীয় চুক্তির নিয়মে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত মূলত পারফরম্যান্স এবং জাতীয় দলে ক্রিকেটারের ফরম্যাট-ভিত্তিক অবস্থান বিবেচনা করেই বার্ষিক চুক্তি এবং গ্রেড নির্ধারণ করা হতো। তবে আগামী দিনে আর কেবল অতীতে পারফর্ম করাই যথেষ্ট নয়, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ক্রিকেটার ঠিক কতগুলি ম্যাচে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত থাকছেন, চুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে সেটিই হতে চলেছে অন্যতম প্রধান শর্ত।
বোর্ডের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা সারা বছর ফর্মহীনতা কিংবা চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও তাঁদের নির্ধারিত গ্রেডের পুরো অর্থই পেয়ে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, চোট বা অন্যান্য কারণে চুক্তিতে থাকা একাধিক তারকা ক্রিকেটার বছরের অধিকাংশ ম্যাচেই অনুপস্থিত থেকেছেন। অথচ তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যাঁরা সারা বছর ধরে নিয়মিত পারফর্ম করে গিয়েছেন, তাঁরা চুক্তির আওতাভুক্ত হতে পারেননি।
এই বৈষম্য দূর করতে এবং খেলোয়াড়দের নিজেদের ফিটনেস বজায় রাখার বিষয়ে আরও দায়বদ্ধ করতেই বোর্ড এই কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে। বিসিসিআই সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী মরশুমের কেন্দ্রীয় চুক্তি ঘোষণার আগে প্রতিটি ক্রিকেটারের সারা বছরের উপস্থিতি পরিমাপের একটি সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা তৈরি করা হচ্ছে। আগামীতে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে একজন ক্রিকেটারকে মরশুমের মোট আন্তর্জাতিক ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ বা ন্যূনতম সংখ্যায় অংশগ্রহণ করতেই হবে।
চোটের প্রবণতা কমিয়ে নিজেদের আন্তর্জাতিক মানের জন্য ফিট রাখাই হবে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে টিকে থাকার চাবিকাঠি। শুধু পারফরম্যান্স নয়, দলের প্রয়োজনে ক্রিকেটারকে কতটা পাওয়া যাচ্ছে, সেই প্রাপ্যতাকে চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। বোর্ডের এক শীর্ষকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, আপাতত বিষয়টি প্রাথমিক আলোচনা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ম্যাচ কোটার এই নির্দিষ্ট শতাংশ ঠিক কত হবে, তা চূড়ান্ত করতে বিসিসিআই-এর অন্দরে রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে।
বিগত কয়েক মাসে একাধিক ভারতীয় তারকার চোট জাতীয় দলের চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি পেসার যশপ্রীত বুমরা চোট সামলে দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলে ফিরেছেন। অন্যদিকে, হর্ষিত রানার মতো উদীয়মান পেসারও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পেয়ে জাতীয় দল ও এশিয়ান গেমসের স্কোয়াড থেকে ছিটকে গিয়েছেন।
চুক্তি অনুযায়ী শুবমান গিল, যশপ্রীত বুমরা ও রবীন্দ্র জাদেজা শীর্ষ ‘এ’ গ্রেডে এবং বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো তারকারা ‘বি’ গ্রেডে অবস্থান করছেন। তবে বোর্ডের এই প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেলে, আগামীতে কেবল নাম বা অতীত ঐতিহ্য দেখে নয়, মাঠের নিয়মিত উপস্থিতিই ঠিক করবে কোন ক্রিকেটার কত টাকার বার্ষিক চুক্তি পেতে চলেছেন। চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও, এটি স্পষ্ট যে বিসিসিআই এবার জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলা এবং চোটমুক্ত থাকাটাকেই চুক্তির সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হিসেবে গণ্য করতে চলেছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন