সমকালীন প্রতিবেদন : বার্ধক্য ভাতার টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে না এসে দীর্ঘদিন ধরে এক তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্যের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে– এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায়। প্রায় ছয় বছর ধরে সরকারি বার্ধক্য ভাতার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন এক উপভোক্তা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগদার রামনগর এলাকার বাসিন্দা গোপাল মণ্ডলের অভিযোগ, প্রায় ছয় বছর ধরে সরকারি প্রকল্পের টাকা তাঁর নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে এবং বিডিও দফতরে যোগাযোগ করেও সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁর।
সম্প্রতি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে গোপাল মণ্ডল জানতে পারেন, তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া বার্ধক্য ভাতার টাকা অন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। অভিযোগ, সেই অ্যাকাউন্টটি বাগদার বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের পদ্মপুকুর এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য রূপালি বিশ্বাসের।
এরপরই বিষয়টি নিয়ে সরব হন গোপাল মণ্ডল। তাঁর দাবি, নিজের প্রাপ্য বার্ধক্য ভাতার টাকা তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাননি। অথচ তাঁর নামে বরাদ্দ টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং তাঁর প্রাপ্য টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গোপাল মণ্ডলের অভিযোগ, প্রায় ছয় বছর ধরে তাঁর বার্ধক্য ভাতার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে তাঁর ভাতার সঙ্গে অন্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত হল, সরকারি নথিতে কীভাবে এই পরিবর্তন করা হল এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, সেই সমস্ত বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গোপাল মণ্ডল। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করেছে বাগদা থানার পুলিশ। বার্ধক্য ভাতার সরকারি নথি, উপভোক্তার তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং গত কয়েক বছরের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
কীভাবে গোপাল মণ্ডলের বার্ধক্য ভাতার টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে যেতে শুরু করল, তা খুঁজে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর ও ব্যাংকের নথিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এই ঘটনায় কারও সরাসরি ভূমিকা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে পুলিশ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। বনগাঁ জেলা যুব বিজেপি নেতা দেবব্রত ঢালি অভিযোগ করেছেন, শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে এতদিন ধরে একজন বৃদ্ধের সরকারি ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর দাবি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকী রূপালি বিশ্বাসকে গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন