সমকালীন প্রতিবেদন : বাংলার ফুটবল ময়দানকে চাঙ্গা করতে এবং রাজ্য থেকে নতুন প্রতিভা তুলে আনতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। নিউ টাউনে প্রাক্তন এক ঝাঁক প্রখ্যাত ফুটবলারকে সঙ্গে নিয়ে ‘বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি’ প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি দেশের ক্রীড়া মানচিত্রে বাংলাকে আবারও শীর্ষস্থানে ফিরিয়ে আনার এই পরিকল্পনার কথা জানান।
দীর্ঘদিনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মিঠুন চক্রবর্তী জানান, অনেক বছর আগে থেকেই এই অ্যাকাডেমি খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিগত সরকার রাজনৈতিক কারণে এই প্রকল্পে সহযোগিতা করেনি বলে তাঁর অভিযোগ। তবে বর্তমান রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এবার এই কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সাহায্য ও পরিকাঠামোগত সমর্থনের আশ্বাস মিলেছে।
প্রতিভা সন্ধানের বিষয়ে একটি বিস্তৃত ব্লু-প্রিন্ট তুলে ধরা হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে মিঠুন চক্রবর্তীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রখ্যাত প্রাক্তন ফুটবলার কম্পটন দত্ত, মিহির বসু এবং অমিত ভদ্র। জানা গিয়েছে, অভিজ্ঞ এই ফুটবল ব্যক্তিত্বরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে সেরা ফুটবল প্রতিভাদের খুঁজে বের করবেন। অ্যাকাডেমির জন্য প্রাথমিকভাবে ৬০ জন সম্ভাবনাময় তরুণ খেলোয়াড়কে নির্বাচন করা হবে।
গ্রাম ও শহরের পাশাপাশি পাহাড় এবং আদিবাসী অঞ্চলগুলির উপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান তরুণরাও উঠে আসার সুযোগ পান। মিঠুন চক্রবর্তীর লক্ষ্য, উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই ৬০ জন খেলোয়াড়কে জুনিয়র দলে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা। অ্যাকাডেমির পরিকাঠামো ও স্থান নির্ধারণ সম্পর্কিত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। মিঠুনবাবু জানিয়েছেন, অ্যাকাডেমিটি কলকাতাতেই তৈরি করা হবে।
তবে নির্দিষ্ট কোনো মাঠ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাজ্য সরকার কখন টেন্ডার ডেকে প্রয়োজনীয় মাঠ হস্তান্তরিত করবে, তারই অপেক্ষা করা হচ্ছে। বাছাইয়ের সুবিধার্থে তিন-চারটি মাঠের তালিকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যার মধ্যে একটিকে চূড়ান্ত করা হবে। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গঠনের কাজ ত্বরান্বিত করতে প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হয়ে গিয়েছে। অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সশরীরে জেলায় জেলায় উপস্থিত থেকে খেলোয়াড় নির্বাচনের এই উদ্যোগ বঙ্গ ফুটবলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন