সমকালীন প্রতিবেদন : তৃণমূলের দখলে থাকা গাইঘাটার শিমুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে এবার পালাবদলের সম্ভাবনা তৈরি হল। একাধিক অভিযোগ তুলে গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল বিজেপি। বুধবার সেই অনাস্থা প্রস্তাবের উপর আস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাভুটিতে অংশ নেন মোট ১৮ জন পঞ্চায়েত সদস্য। তাঁদের মধ্যে ১২ জন বিজেপি সদস্য এবং ৬ জন তৃণমূল সদস্য ছিলেন। ভোটের ফলাফল দাঁড়ায় ১৮-০। অর্থাৎ উপস্থিত ১৮ জন সদস্যই প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। এর ফলে শিমুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল প্রধানের পদ কার্যত শূন্য হয়ে গেল। পরবর্তী পর্যায়ে প্রশাসনিক নিয়ম মেনে নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বুধবারের ভোট ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, শিমুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ৩০টি আসন রয়েছে। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ১৬টি আসনে জয়লাভ করেছিল। অন্যদিকে বিজেপি পেয়েছিল ১৪টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করে তৃণমূল এবং প্রধানের দায়িত্বে আসেন তৃণমূলের নির্বাচিত প্রতিনিধি। পরবর্তীতে বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় তাদের নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৩-তে। সেই পরিস্থিতিতে ১৬ জন সদস্য নিয়ে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চায়েতের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে পরিবর্তন আসে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।
চলতি মাসের ৩ তারিখে তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিজেপি। প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে অনাস্থা আনা হয়েছিল বলে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই বুধবার আস্থা ভোটের আয়োজন করা হয়। ভোটের সময় মোট ৩০ জন সদস্যের মধ্যে ১৮ জন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিজেপির ১২ জন সদস্য এবং তৃণমূলের ৬ জন সদস্য ভোটাভুটিতে অংশ নেন। ভোট গণনার পর দেখা যায়, প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে পড়েছে ১৮টি ভোট। বিপক্ষে একটি ভোটও পড়েনি। ফলে ১৮-০ ব্যবধানে অনাস্থা প্রস্তাবটি পাস হয়ে যায়।
তবে ভোটের ফলাফল ঘিরে দুই দলের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ভিন্নতা। তৃণমূলের সদস্যদের একাংশের দাবি, তাঁরা ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং সেই কারণেই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পর তাঁরা বিজেপিকে সমর্থন করেছেন।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের ছয় সদস্য অনাস্থা ভোটে বিজেপিকে সমর্থন করেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেননি। তাঁদের দলে নেওয়া হবে কি না, সেই বিষয়ে দলের সাংগঠনিক স্তর থেকে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ফলে বুধবারের ভোটের পর শিমুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৩০ আসনের এই পঞ্চায়েতে বর্তমানে কোন সদস্য কোন দলের সঙ্গে রয়েছেন এবং আগামী দিনে বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে তৃণমূলের ছয় সদস্যের অবস্থান আগামী প্রধান নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও তাঁদের বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। ফলে নতুন প্রধান নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
বুধবারের আস্থা ভোটের ফলাফলের পর এখন পরবর্তী ধাপ নতুন প্রধান নির্বাচন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কবে প্রধান নির্বাচন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন প্রধান নির্বাচনের সময় শিমুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে কোন পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারে, সেটিই এখন মূল বিষয়। একদিকে অনাস্থা ভোটে ১৮ জন সদস্যের সমর্থন পাওয়ার কথা সামনে রেখে বিজেপি শিবিরে নতুন করে বোর্ড দখলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের ছয় সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের ভূমিকা কী হবে, তার উপরও অনেকটাই নির্ভর করছে পঞ্চায়েতের ভবিষ্যৎ সমীকরণ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন