সমকালীন প্রতিবেদন : বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে বনগাঁয় তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখালেন টোটো চালকদের একাংশ। শনিবার বিকেলে আচমকাই চাকদা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন তাঁরা। অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টোটো চালকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করা হয়েছে। সেই টাকার কোনও হিসাব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে টোটো চালকদের কাছ থেকে নানা খাতে টাকা তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সেই অর্থের হিসাব প্রকাশ করতে হবে এবং টাকা ফেরত দিতে হবে। এই দাবিকে কেন্দ্র করেই শনিবার বিকেলে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়।
অভিযোগ, একসময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালান। অফিসের দরজা-জানালার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কার্যালয়ের সামনে থাকা বনগাঁ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাইনবোর্ড খুলে ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ক্ষুব্ধ টোটো চালকেরা দলীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেন।
এক মহিলা টোটো চালকের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে টোটো চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় করা হয়েছে। তাঁর দাবি, চালকদের কাছ থেকে নেওয়া সেই বিপুল অর্থের কোনও স্বচ্ছ হিসাব নেই।
এই ঘটনায় ভারতীয় মজদুর সংঘের টোটো চালক সংগঠনের পক্ষ থেকেও পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংগঠনের নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে টোটো চালকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে, তার কোনও হিসাব নেই বলেও অভিযোগ তাঁদের।
টোটো ইউনিয়নের দাবি, টোটো চালকদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে দীর্ঘদিন টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক টোটো রাস্তায় নামানোর কারণেও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। টোটো চালকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনগাঁ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকেও নজর রাখছে পুলিশ।
টোটো চালকদের এই বিক্ষোভ ঘিরে বনগাঁয় রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে টোটো চালকদের টাকা আদায়ের অভিযোগ, অন্যদিকে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও সাইনবোর্ডে আগুন– দুই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। টোটো চালকদের তোলা অভিযোগের সত্যতা এবং টাকা আদায়ের প্রকৃত হিসাব কী, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন