Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিক্ষক দিবসে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, নিজের স্কুলে অতিথি হয়ে এলেন প্রাক্তন ছাত্ররা

 

Teacher-Day

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌শিক্ষক দিবসের বিশেষ দিনে নিজেদের শৈশবের স্কুলে ফিরে নস্টালজিয়ায় ভাসলেন জনপ্রতিনিধিরা। একদিকে বনগাঁর ঘাঁটবাওড় আদর্শ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে ফিরে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্লাস নিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। অন্যদিকে, গাইঘাটার ঠাকুরনগর হাইস্কুলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নিজেদের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এবং গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর।

শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের মতোই ঘাঁটবাওড় আদর্শ বিদ্যালয়েও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তিনি এই বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র। ফলে শিক্ষক দিবসের দিনে দীর্ঘদিন পর নিজের স্কুলে ফিরে কার্যত পুরনো দিনের স্মৃতিতে ডুব দেন মন্ত্রী। তবে এদিন শুধু অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেননি তিনি। শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের একটি ক্লাসও নেন অশোক কীর্তনীয়া। শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জীবন ও অবদান নিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং জীবনে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার পরামর্শ দেন।

ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেন মন্ত্রী। স্কুলে পড়াশোনা করতে গিয়ে তাঁদের কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, পরিকাঠামো বা অন্যান্য বিষয়ে কোনও অসুবিধা রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। নিজের স্কুলে ফিরে আবেগাপ্লুত অশোক কীর্তনীয়া বলেন, শিক্ষক দিবসের মতো বিশেষ দিনে স্কুলে এসে ছোটবেলার অনেক কথা মনে পড়ছে। ছাত্রজীবনে তিনি এই স্কুলের প্রথম বেঞ্চে বসতেন। এই স্কুলেই তাঁর শৈশবের একটা বড় সময় কেটেছে। পরবর্তীতে বিধায়ক হওয়ার পর স্কুল ও এলাকার উন্নয়নের জন্য তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।

একই দিনে অন্য একটি আবেগঘন ছবি ধরা পড়ে গাইঘাটার ঠাকুরনগর হাইস্কুলে। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এবং গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর। দুজনেই এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। ফলে প্রিয় স্কুলে ফিরে তাঁদের কথায় উঠে আসে ছাত্রজীবনের নানা স্মৃতি। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সকাল থেকেই ঠাকুরনগর হাইস্কুল চত্বর ছিল উৎসবের আমেজে মুখর। এদিন স্কুলের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলানোর সুযোগ দেওয়া হয় ছাত্রছাত্রীদের। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে ক্লাস নেওয়া, শিক্ষকদের ভূমিকায় দেখা যায় পড়ুয়াদের একাংশকে। পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শান্তনু ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুর তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। ভবিষ্যতে দেশ গড়ার কাজে পড়ুয়াদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে মন দিয়ে পড়াশোনা করার এবং নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তাঁরা।

ঠাকুরনগর হাইস্কুলে নিজের ছাত্রজীবনের দিনগুলির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তিনি জানান, তাঁর ছোটবেলার স্কুলে এসে পুরনো দিনের অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। তাঁদের সময় স্কুলের কয়েকটি ঘরে টিনের চাল ছিল। বর্তমানে সেই জায়গায় আধুনিক ক্লাসরুম তৈরি হয়েছে। তবে স্কুল চত্বরে এখনও তাঁর ছাত্রজীবনের সময়কার বেশ কিছু গাছ রয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী দিনে এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে, এমনটাই তাঁর প্রত্যাশা। পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছাও জানান তিনি।

বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের কাছেও নিজের স্কুলে অতিথি হিসেবে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা ছিল বিশেষ। তিনি বলেন, যে স্কুলে ছোটবেলায় পড়াশোনা করেছেন, সেই স্কুলেই আজ অতিথি হিসেবে আসতে পারা তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। পুরনো স্কুলে পা রাখতেই ছাত্রজীবনের বহু স্মৃতি একের পর এক মনে পড়ছে বলেও জানান তিনি। পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শান্তনু ঠাকুর এবং সুব্রত ঠাকুর– দুজনেরই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে ঠাকুরনগর হাইস্কুলে। তাই শিক্ষক দিবসের দিনে সেই পুরনো স্কুলে ফিরে প্রাক্তন শিক্ষক, বন্ধু এবং সহপাঠীদের স্মৃতিচারণায় অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

একদিকে নিজের স্কুলে ফিরে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার শিক্ষকতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া, অন্যদিকে ঠাকুরনগর হাইস্কুলে শান্তনু ও সুব্রত ঠাকুরের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে ফিরে আসা– শিক্ষক দিবসে উত্তর ২৪ পরগনায় ধরা পড়ল রাজনীতির বাইরের এক অন্য ছবি। শৈশবের স্কুলের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের পুরনো সম্পর্ক এবং নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁদের এই সংযোগ শিক্ষক দিবসের আয়োজনকে আরও বিশেষ করে তুলল।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন