Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাইকে বস্তাবন্দি প্রেমিকার রক্তাক্ত দেহ লোপাটের চেষ্টা, পুলিশি চেকিংয়ে ধৃত প্রেমিক

 

Arrested-lover

সমকালীন প্রতিবেদন : প্রেমে টানাপড়েন, চরম ঈর্ষা ও তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতির সন্দেহে ফের এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। নার্সিংয়ের এক তরুণী ছাত্রীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে খুন করার পর, রাতের অন্ধকারে বস্তাবন্দি মৃতদেহ বাইকে চাপিয়ে পাহাড়ের গভীরে লোপাটের চেষ্টা করছিল তাঁরই দীর্ঘদিনের প্রেমিক। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার পুলিশের তৎপরতায় নাকা চেকিংয়ের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত যুবক। 

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত ১৯ বছরের তরুণীর বাড়ি পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি থানা এলাকার বোরদা গ্রামে। তিনি পুরুলিয়া শহরে একটি মেসে থেকে নার্সিংয়ের পাঠ নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত যুবক অমিত মাহাতোর বাড়ি বাঘমুণ্ডিরই হুড়ুমদা গ্রামে। সে-ও পুরুলিয়া শহরের কাছে টামনা থানা এলাকার একটি মেসে থেকে সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বহু বছর আগে একই কোচিং সেন্টারে পড়তে গিয়ে তাঁদের মধ্যে পরিচয় হয় এবং তা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক মাস ধরে তাঁদের সেই সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়েছিল। অভিযুক্ত অমিতের মারাত্মক সন্দেহ তৈরি হয় যে তরুণী অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার তীব্র বচসাও হয়। শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ মেস থেকে বের হন তরুণী। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বললেও সেদিন বিকেল থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পান পরিবারের সদস্যরা। দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবার মেস মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং রাতে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, শনিবার রাতে তরুণীকে নিজের মেসে ডেকে এনেছিল অমিত। সেখানেই বাকবিতণ্ডা চরম আকার ধারণ করলে রাগের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণীর গলা কেটে তাকে খুন করা হয়। অপরাধ ঢাকতে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় দেহটি একটি বস্তায় ভরে নিজের বাইকের পিছনে শক্ত করে বাঁধে অমিত। এরপর রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে বাঘমুণ্ডি ও অযোধ্যা পাহাড়ের নির্জন এলাকার দিকে রওনা দেয়, যাতে দেহটি সেখানে চিরতরে গুম করে দেওয়া যায়।

শনিবার মাঝরাতে বলরামপুর থানার বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসের কাছে নিয়মিত নাকা তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। একটি দ্রুতগামী বাইককে দাঁড় করাতে গিয়ে পুলিশকর্মীদের নজরে আসে বাইকের পিছনের বস্তা থেকে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত চুঁইয়ে পড়ছে। সন্দেহ হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে বাইকটি আটক করে বস্তা খুলতেই ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ওই তরুণীর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ। আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর টানা জেরার মুখে ভেঙে পড়ে অভিযুক্ত অমিত এবং নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে।

তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে কয়েক বছর আগের বহরমপুরের সুতপা চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর মিল রয়েছে। সেখানেও প্রাক্তন প্রেমিক সুশান্ত চৌধুরী একইভাবে সুতপাকে কুপিয়ে খুন করেছিল। পুরুলিয়ার এই ঘটনার নেপথ্যেও ঠিক তেমনই প্রতিশোধ ও ত্রিকোণ প্রেমের তত্ত্ব কাজ করেছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রবিবার সকালে পুলিশ নিহত তরুণীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের বাবার কাতর আকুতি, "মেয়ের ফোন বন্ধ থাকায় আমরা উদ্বেগে ছিলাম। রাতে পুলিশ খবরের পর গিয়ে দেখি মেয়েকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে কেবল অমিত নয়, আরও কেউ যুক্ত থাকতে পারে।" নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসকরা প্রাথমিক ইঙ্গিতে জানিয়েছেন খুনের আগে তরুণীর ওপর চরম শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয়ে থাকতে পারে।

রবিবার অভিযুক্ত অমিত মাহাতোকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৯ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে মেসের ঠিক কোন স্থানে খুনটি সম্পন্ন হয়েছিল এবং এতে অন্য কারো মদত ছিল কি না।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন