সমকালীন প্রতিবেদন : টেলিভিশন দেখাকে কেন্দ্র করে ক্লাবের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তৈরি হওয়া সামান্য বিরোধের পরিণতি যে এমন মর্মান্তিক হতে পারে, তা ভাবতেও পারেননি এলাকাবাসী। গোপালনগর থানার অন্তর্গত বৃদ্ধপাল্লা এলাকায় এক যুবককে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস লাগিয়ে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল। নিহত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ মুন্ডা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে গোপালনগর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ এবং পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পেশায় রাজমিস্ত্রি বিশ্বজিৎ গত কয়েক মাস ধরে ভিন্ন রাজ্যে কাজ শেষ করে নিজের বাড়িতেই থাকছিলেন। স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকায় রাতের খাবারের পর অধিকাংশ সময় স্থানীয় ক্লাবেই কাটাতেন তিনি। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, দিন তিনেক আগে ক্লাবে টিভি দেখা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বিশ্বজিতের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। সেই সময় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে যখন বিশ্বজিৎ বাড়িতে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় নিতাই ও টোটন নামে দুই স্থানীয় যুবক তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় বিশ্বজিতের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয় খেলার মাঠের পাশে তাঁর ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পরিবারের লোকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
খুনের খবর পাওয়ামাত্র গোপালনগর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তের পর এবং পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মূল সন্দেহভাজন ‘টোটন’ নামে এক অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, তিন দিন আগে যারা হুমকি দিয়েছিল, তারাই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। গোপালনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে সঠিক তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন