Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

কিংবদন্তির আঙিনায় আধুনিকতার ছোঁয়া: কিশোর কুমারের ‘গৌরী কুঞ্জ’ থেকে বিরাট কোহলির রেস্তোরাঁ

 ‌

Restaurant-of-Virat-Kohli

সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় সংগীত জগতের সর্বকালের অন্যতম সেরা সুরসাধক কিশোর কুমার এবং আধুনিক ভারতীয় ক্রিকেটের দিকপাল বিরাট কোহলি– ‌দুই ভিন্ন জগতের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র এবার এক অনন্য মেলবন্ধনে আবদ্ধ হলেন। মায়ানগরী মুম্বইয়ের অভিজাত জুহু এলাকায় অবস্থিত কিশোর কুমারের ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবিজড়িত বাংলো ‘গৌরী কুঞ্জ’-এ চালু হয়েছে বিরাট কোহলির নতুন উদ্যোগ, তাঁর বিখ্যাত ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ ‘ওয়ানএইট কমিউন’। 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি পাঁচ বছরের চুক্তিতে কিশোর কুমারের এই স্মৃতিবিজড়িত বাসভবনের একাংশ লিজ হিসেবে গ্রহণ করেন। মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে কিশোর কুমার নিজের এই প্রিয় বাসভবনের নাম রেখেছিলেন ‘গৌরী কুঞ্জ’। পেশাগত জীবনের সাফল্য ও জনপ্রিয়তার শীর্ষবিন্দুতে অবস্থান করার সময়েই তিনি এই বাংলোটি নির্মাণ করেন। 

তবে তৎকালীন বোম্বাইয়ের অতিব্যস্ত ও চাকচিক্যময় জীবনযাত্রার মাঝে তিনি এটিকে কেবল একটি বিলাসবহুল আবাসন হিসেবে দেখেননি, বরং প্রকৃতির সবুজ সান্নিধ্যে প্রশান্তি এবং মানসিক সুকুন খুঁজে নেওয়ার এক নিভৃত আশ্রয় হিসেবেই গড়ে তুলেছিলেন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ, সবুজ তৃণভূমি এবং ছায়াসুনিবিড় গাছপালায় ঘেরা গৌরী কুঞ্জ ছিল গায়কের সবচেয়ে পছন্দের ঠিকানা।

সংগীতের পাশাপাশি নিজের একান্তে কাটানো সময়ের জন্য বিখ্যাত এই বাংলোটি ঘিরে প্রচলিত রয়েছে অসংখ্য মজার গল্প। ১৯৮৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, শিল্পী নিজেই জানিয়েছিলেন যে তাঁর এই বাগানের গাছগুলিই ছিল তাঁর প্রকৃত বন্ধু। এমনকি তিনি যত্ন করে বহু গাছের আলাদা আলাদা নামকরণও করেছিলেন এবং কাজের ফাঁকে এদের সঙ্গেই সময় কাটাতেন। 

বাইরের জগতের কোলাহল থেকে নিজেকে দূরে রাখতে বাংলোর মূল প্রবেশদ্বারে তিনি টাঙিয়ে রেখেছিলেন এক অদ্ভুত সতর্কবার্তা– ‘বিঅ্যাওয়্যার অব কিশোর’ (কিশোর থেকে সাবধান)। নিভৃতপ্রিয় অথচ রসবোধসম্পন্ন কিশোরের ব্যক্তিত্বের এক অপূর্ব প্রতিফলন ছিল এটি। এক সময় যে ভবনে প্রতিদিন বসত স্বনামধন্য সংগীত পরিচালক, কণ্ঠশিল্পী এবং নিকট বন্ধুদের আড্ডা, যেখানে জন্ম নিয়েছে ভারতীয় চলচ্চিত্রের একের পর এক অমর কালজয়ী সুর, আজ সেই প্রাঙ্গণই এক ভিন্ন রূপে মুখরিত। 

বিরাট কোহলির রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠার সময়েও মূল স্থাপত্যের ঐতিহ্য এবং প্রাক-বিদ্যমান আবহ অক্ষুণ্ণ রাখার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইটের গাথুনি, চারপাশের প্রাচুর্যময় সবুজ, বড় কাঁচের জানালা এবং ম্লান আলোর সুরভিত আবহ আবহমান কাল ধরে কিশোর কুমারের ফেলে যাওয়া স্মৃতি ও প্রশান্তিকে ধরে রেখেছে।

বর্তমানে সংগীতের সেই সুরের মূর্ছনার সঙ্গে মিশে গেছে আধুনিক খাদ্যরসিকদের কোলাহল। সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর কুমারের জন্মবার্ষিকীতেও অনুরাগী ও ভোজনরসিকরা ভিড় জমিয়েছিলেন এই ঐতিহাসিক ঠিকানায়। সুরের অতীত এবং আধুনিক রুচির এই অদ্ভুত সহাবস্থানে কিশোরের গৌরী কুঞ্জ আজ মুম্বইয়ের বুকে নতুন রূপ ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে।‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন