সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে ‘সারপ্লাস’ বা উদ্বৃত্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি প্রক্রিয়ার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে হাইকোর্টের বিচারপতি বিভাস পট্টনায়েক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নতুন তৈরি করা আদর্শ কার্যপদ্ধতির (এসওপি) ভিত্তিতে এখনই কোনো শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীকে বদলি করা যাবে না। তবে বদলি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, আবেদন গ্রহণ এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালু রাখতে রাজ্য সরকারের ওপর কোনো বাধা নেই।
২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন অনুসারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র ও শিক্ষকের অনুপাতে ব্যাপক ভারসাম্যহীনতা দেখা গেছে। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন, আবার কোথাও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকের অভাব প্রকট। এই বৈষম্য দূর করতে রাজ্য সরকার ‘সারপ্লাস’ বদলির উদ্যোগ গ্রহণ করে।
এই প্রক্রিয়া সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য সরকার দু’দফায় আদর্শ কার্যপদ্ধতি প্রকাশ করে। প্রথমটি ১৫ জুলাই এবং পরবর্তীতে ২৪ জুলাই একটি সংশোধিত এসওপি জারি করা হয়। কিন্তু এই নতুন নির্দেশিকার নানা নিয়মাবলী নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষকদের একাংশ আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলাকারী শিক্ষকদের মূল অভিযোগ ছিল, 'সারপ্লাস' বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে। জ্যেষ্ঠতা বিচারে প্রবীণ শিক্ষকদের প্রাধান্য দেওয়া হবে, নাকি যাঁর চাকরির মেয়াদ বেশি তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে– এই সংক্রান্ত বয়সের মাপকাঠিতে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
মামলাটির শুনানিতে বিচারপতি বিভাস পট্টনায়েক জানান, নতুন এসওপি-র ওপর ভিত্তি করে আপাতত কাউকে চূড়ান্ত বদলি করা যাবে না। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা চাইলে বদলির আবেদন জমা দিতে পারবেন। শিক্ষা দপ্তর তাদের প্রয়োজনীয় উদ্বৃত্ত তথ্য সংগ্রহ ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া জারি রাখতে পারবে।
আদালতের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে বদলি প্রক্রিয়া একেবারে থমকে না গেলেও চূড়ান্ত পদক্ষেপের ওপর আপাতত স্থগিতাদেশ রইল। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন