Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি: ২০২৭-এ পর্যালোচনা, ২০২৮-এ নতুন পাঠ্যক্রম চালুর লক্ষ্য সরকারের

 

New-Curriculum

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যের স্কুল পড়ুয়াদের সময় উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করল সিলেবাস কমিটি। মঙ্গলবার সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে নবগঠিত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বর্তমান পাঠ্যবইগুলি অপরিবর্তিত রাখা হবে এবং মূলত সেগুলির পর্যালোচনা করা হবে। তবে ২০২৮ সালে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও পুনর্গঠনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের।

অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত এই সিলেবাস কমিটির বৈঠকে শিক্ষা ও প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন, শিক্ষা দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী এবং শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ, প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বেশি সময় বাকি না থাকায় এই মরশুমে পাঠ্যসূচিতে নতুন কোনো সংযোজন বা পরিবর্তন করা হচ্ছে না। প্রথা মেনে ২ জানুয়ারি ‘বই দিবস’-এর পূর্বেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের মূল নজর এখন ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষের দিকে। মন্ত্রী জানান, ২০২৮ সালের জন্য নতুন কারিকুলাম ও সিলেবাসের একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। এই ড্রাফট চূড়ান্ত হওয়ার পর তা জনসমক্ষে আনা হবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের মতামত চাওয়া হবে।

'পাস-ফেল' প্রথা ফেরানো কিংবা 'সেমিস্টার' পদ্ধতি চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি জাতীয় শিক্ষানীতির নির্দেশিকা মেনেই ২০২৮ সালের নতুন কাঠামোয় বিবেচনা করা হবে। পাঠ্যবই থেকে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করে বিজ্ঞানমনস্ক ও ভীতিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য। 

সিঙ্গুর আন্দোলনের মতো বিষয় পাঠ্যসূচিতে থাকবে কি না, তা সম্পূর্ণ শিক্ষাবিদদের পর্যালোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 'রামধনু' শব্দের ব্যবহার বা বিতর্কিত বিষয়গুলির ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি। পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে শুরু হওয়া ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলির মানোন্নয়ন, সংস্কৃত ভাষাকে আরও জনপ্রিয় করা এবং রাজ্যভাষার ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত হয়ে প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় পাঠ্যপুস্তককে পুরোপুরি অরাজনৈতিক রাখার আহ্বান জানান। তিনি প্রস্তাব দেন, সিঙ্গুর আন্দোলনের মতো বিষয় পাঠ্যক্রমে রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়। তার পরিবর্তে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান এবং পূর্বতন বিভিন্ন সরকারের আমলে উপেক্ষিত ও ‘বিস্মৃত’ অরাজনৈতিক মনীষীদের সঠিক ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন