সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ আর্থিক সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে না পৌঁছানোয় ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হলো বনগাঁ এলাকায়। প্রকল্পের প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রতিবাদে পুরসভা ভবনের সামনে জড়ো হয়ে সোচ্চার হন স্থানীয় অসংখ্য মহিলা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন, যার ফলে ব্যস্ততম ওই এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
প্রতিবাদীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশিকা মেনে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে একাধিকবার প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র দিয়ে আবেদন জমা দিয়েছিলেন। সরকারিভাবে সমস্ত উপযুক্ত আবেদনকারীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিপুলসংখ্যক দুঃস্থ নারী এই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন। বারবার আবেদন জানানোর পর এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছায়নি।
প্রতিবাদ জানানো পরিবারগুলির বড় অংশই দিনমজুর কিংবা অত্যন্ত সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্যের বাজারে প্রাপ্য সরকারি সাহায্য না পাওয়ায় তাঁদের সংসার চালাতে মারাত্মক হিমশিম খেতে হচ্ছে। অসন্তোষের প্রধান কারণ হিসেবে তাঁরা বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, যেখানে বহু প্রকৃত অভাবী ও উপযুক্ত নারী সুবিধা পাচ্ছেন না, সেখানে প্রভাব খাটিয়ে অনভিপ্রেত বা অযোগ্য ব্যক্তিরা এই ভাতার অর্থ পেয়ে যাচ্ছেন।
বনগাঁর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বঞ্চিত বাসিন্দারা জানালেন, সরকারি নির্দেশ মেনে তাঁরা কেউ তিনবার, কেউ চারবার আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একবারও টাকা পান নি। গতকাল দুপুর পর্যন্ত যেখানে অধিকাংশের স্ট্যাটাস রিপোর্টে অ্যাপ্রুভড দেখিয়েছে, সন্ধের পর থেকে তাঁদের বেশিরভাগের দেখাচ্ছে আন্ডার প্রসেস। অনেকের আবেদনপত্র বাতিলও দেখাচ্ছে। এব্যাপারে তাঁরা রাজ্যের বর্তমান সরকারের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন।
অভিযোগের মাত্রা চরম রূপ নিলে প্রতিবাদীরা পুরসভার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, তিন-তিনবার চেষ্টা করার পরও কেন তাঁদের বঞ্চনার স্বীকার হতে হলো, প্রশাসনকে তার জবাব দিতে হবে। বঞ্চনার শিকার হওয়া নারীদের দাবি, অবিলম্বে আবেদনপত্রগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখে তাঁদের পাওনা অর্থ প্রদান করতে হবে। সব যোগ্য আবেদনকারী যাতে সমান সুবিধা পান, তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তাঁরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত সমস্যা সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় মাপের ও টানা আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন